ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে রাতভর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্র্রদায়ের ১৭৬তম মহারাস উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে, আদমপুরের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মণ্ডপ এবং মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মনিপুরী মৈতৈ সম্প্র্রদায়ের ৩৩তম দুটি পৃথক মহারাসোত্সব শুরু হয়েছে।
একটি রজনীকে ঘিরে এই উত্সবের স্থায়িত্বকাল মাত্র একদিন। উত্সবকে কেন্দ্র করে মণিপুরীদের সংস্কৃতির এক বিশাল মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। রাসোত্সবকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মণিপুরী পাড়াসমূহে চলছে প্রস্তুতি ও উত্সবের আমেজ। রং ছড়িয়ে মণ্ডপসমূহকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। সকাল ১১টা থেকে রাখাল নৃত্য (গোষ্ঠলীলা) শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাত্রিতে অনুষ্ঠিত হবে রাসোত্সব। রাসোত্সব উপলক্ষে হাজারো মানুষের মিলনতীর্থ পরিণত হবে মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ আর আদমপুরের মণিপুরী কমপ্লেক্স এলাকা। মণ্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।
মণিপুরী সম্প্র্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্র্রদায়ের শত শত লোকেরা মেতে উঠে এই আনন্দে। এ বছর প্রচুর পরিমাণে বিদেশি পর্যটকেরও আগমন ঘটে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার মানুষের পদচারণায় সকাল থেকে মুখরিত হয়ে উঠে মণিপুরী পল্লীর এ দুটি এলাকা। রাসোত্সব উপলক্ষে ২টি এলাকায় পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উত্সবকে কেন্দ্র করে ২টি স্থানেই বসেছে বিশাল মেলা।
১৮তম কাত্যায়নী পূজায় গঙ্গাস্নান
গঙ্গাস্নানের মধ্যদিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের ১৮তম কাত্যায়ানী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষে উপজেলার মাধবপুর চা বাগান সনাতনী ভক্তের আয়োজনে কার্তিক মাসব্যাপী ব্রত পালন শেষে রাত থেকে বাগানের বিভিন্ন মন্দিরে নাম কীর্তন শুরু হয়। শুক্রবার ভোর রাত থেকেই বিভিন্ন চা বাগানের হাজারো ভক্তরা গঙ্গাস্নান ও পূজার্চনা করতে হীরামতি ধলাই নদীর তীরে সমবেত হয়।
