সুইডেনের জাতীয় সংসদের সদস্য জেনস হোম ও নুশি ড্যাডগোস্তার এবং স্টকহোম কাউন্টি কাউন্সিল মেম্বাার মহিবুল এজদানি খান আজ মানিকগঞ্জে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক ও সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামে বেসরকারী উন্নয়নধর্মী প্রতিষ্টান বারসিকের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইব্রাহিম মিয়ার বাড়িতে তার প্রাকৃতিক খামার পরিদর্শন করেন।
সকাল সাড়ে নয়টায় তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিনের সঙ্গে জেলা পরিষদের কর্মকান্ড নিয়ে বৈঠক করেন। গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, অল্প টাকায় বেশী জনগণকে সুবিধা দেয়াই জেলা পরিষদের মুল উদ্দেশ্য। এছাড়া জেলার রাস্তাঘাট উন্নত করা, বেকার যুবক যুবতীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার ট্রেনিং, সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ, অবহেলিত স্কুলের উন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক বৃত্তি প্রদান, বাল্য বিবাহ রোধ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করে থাকে জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের কর্মকান্ডে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সুইডেনের পক্ষ থেকে জেলায় অত্যাধুনিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের প্রস্তাব দেন।
এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড অ্যাডভোকেট আজাহার উদ্দিন আরজু,জেলা ঘাতক দালাল নির্মূষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ, বারসিকের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, দৈনিক টেলিগ্রামের সস্পাদক ও প্রকাশক শহিদুল ইসলাম সুজসহ জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১১ টায় বায়রা ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামে পৌঁছুলে গ্রামবাসী তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ও ডাব ও কলা দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করেন।
গ্রাম পরিদর্শনকালে ইব্রাহিম মিয়া জানান, তার মোট ১৫০ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি সে জমিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ফসল ফলান। তার কাছে প্রায় ২০ জাতের ধানের বীজ রয়েছে। ১৮ ধরণের শাক সবজির জাত রয়েছে। ঔষধি গাছ রয়েছে প্রায় ১০০ প্রজাতির। এছাড়া তার কাছে ৩৬ জাতের ফলজ গাছ আছে।
তার রোপনকৃত প্রায় সব গাছের গায়ে গাছের নাম লেখা আছে যাতে অচেনা কোনো মানুষ সহজেই বুঝতে পরে কোনটি কি গাছ। তার নিজের বাড়িতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে জৈব সার এবং কেঁচো সার উৎপাদন করেন এবং এগুলো তার নিজস্ব কাজে ব্যাবহার করেন।
তার নিজের এলাকায় একটি সংগঠন আছে তার নাম নয়াবাড়ী কৃষক, কিষাণী সংগঠন। তিনি এই সংগঠনের সহ-সভাপতি।
পরিদর্শনকারী ৩সদস্য দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরিদর্শন শেষে বিদেশীরা বাংলাদেশের চাষাবাদ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/এএন
