সবুজ সতেজ লেবুতে ভরা সিলেটের বাজার। নানা রকম নানা জাতের লেবু পাওয়া যাচ্ছে এখানকার বাজারে। এ সব লেবুর স্বাদ ও আকারও ভিন্ন। দামেরও পার্থক্য অনেক। সাধারণ লেবু প্রতি হালির দাম ২৫-৩০ টাকা। আর জারা লেবু একটিই ৩-৪শ টাকায়ও বিক্রি হয় সিলেটের বাজারে। বিশেষ করে লন্ডন প্রবাসীরা জারা লেবু বেশি পছন্দ করেন। বৃহত্তর সিলেটের বিশেষ করে জৈন্তা, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলে লেবু চাষ করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। পাহাড়ি অনেক পতিত জমি রয়েছে সেখানে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লেবু চাষ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
বৃহত্তর সিলেটের বাজারে যেসব লেবু পাওয়া যায়, এর মধ্যে জারা সবচেয়ে দামি। এ ছাড়া রয়েছে ঠনা লেবু অর্থাত্ দেশি লেবু। এই লেবু ভাতের সঙ্গে চিবিয়ে খেতে মজা। চায়না লেবু, কাগজি লেবুর রস ভালো হয়। তাই গরমে অনেকে এর রস দিয়ে শরবত খান। পাতি লেবু, আদা লেবু দিয়ে তরকারি রান্না হয়। যা সিলেটিরা ‘টেংগার খাটা’ বলেন (কিছুটা টক)।
সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় লেবুকে জামিরও বলা হয়। নগরীর লালবাজারের জারা লেবু ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, জারা লেবু ৩শ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়। এক সময় বছরের নির্দিষ্ট সময় এ সব লেবু পাওয়া যেত। এখন কম-বেশি বারো মাসই পাওয়া যায়। সিলেটের মাটিতে অম্লত্ব বেশি থাকায় এখানে লেবু জাতীয় ফলের সম্ভাবনা খুব বেশি।
বিশেষ করে জারা লেবুর কদর বেড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। জারা দেখতে অনেক বড়। দুআড়াই কেজি ওজনের জারা যে কাউকে আকৃষ্ট করে। সাধারণত ভাতের সঙ্গে এটি খাওয়া হয়। এর রস যেমন-তেমন তবে ছোলা খেতে মিষ্টি। আর এ জন্যই এই লেবুর কদর বেশি। জারা লেবুর খোঁজ করতে গিয়ে হরিপুরের দুর্গম পাহাড় আর চা বাগান পাড়ি দিয়ে জনমানব শূন্য এলাকা ফতেহপুর গেলে দেখা যায়, শামসুদ্দিন (৪৫) নামে একজন বাড়ির সামনে বিশাল জারা লেবুর গাছে কিটনাশক দিচ্ছেন। প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ওষুধ না ছিটালে গান্ধি পোকা ও ছত্রাকে ভরে যাবে বাগান। তবে তিনি ওষুধ ছিটানোর এক সপ্তাহের মধ্যে লেবু বাজারে তোলেন না। জানালেন, জারা লেবু চাষ করে তিনি লাভবান। তবে লন্ডনে মাল পাঠিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মার খেয়েছেন। ২০১৪ সালে জারা বিক্রি করে ৭ লাখ, পরের বছর ৯ লাখ, আর ১৬ সালে আয় করেছেন ১০ লাখ টাকা। ২ ছেলে ও ৬ মেয়ের জনক এই লেবু চাষি তার সঞ্চিত অর্থে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বাকিরা পড়াশুনা করছে।
শামসুদ্দিন আরো জানান, তাদের বাড়িতে জারা লেবু এমনিতেই হতো। কিন্তু ৯৩ সাল থেকে তিনি এই ব্যবসায় মন দেন। এই বারোমাসি লেবু তিনি প্রতি সপ্তাহে ৮-১২ পিস বিক্রি করেন। তার বাগানে তিনি ও আরো ৩জন শ্রমিক নিয়মিত পরিচর্যায় থাকেন। ফলন ভালো হলে সারা বছর খরচ বাদে ৮-১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। তবে তিনি বলেন, জৈন্তা, হরিপুরের পাহাড়ে প্রচুর পতিত জমি রয়েছে, সেখানে জারাসহ অন্য লেবুর চাষ করা যেতে পারে।
ইত্তেফাক/নূহু
