ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার আর ইঞ্জিনচালিত রিকশার যন্ত্রণায় ভুগছে খুলনা মহানগরবাসী। রাস্তা দিয়ে হেঁটে চললেও কখন চাপা দেবে বলা মুশকিল। বড় আর ছোট রাস্তা নেই, সবখানেই বিপজ্জনক এই যানবাহন চলছে। পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকেরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এসব যানবাহনের কারণে। এ নিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। যেন দুর্ভোগের শেষ নেই খুলনাবাসীর।
পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী খুলনা মহানগরীতে কতগুলো ইজিবাইক চলছে তার সঠিক তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয় বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার ইজিবাইক চলছে। এরমধ্যে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স রয়েছে মাত্র এক হাজার ৯৬৩টি ইজিবাইকের। অনভিজ্ঞ, আনাড়ি চালকদের কারণে প্রতিদিন গড়ে সাত/আটটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
অব্যাহত দুর্ঘটনা, যানজট ও জনসাধারণের ভোগান্তির কারণে খুলনায় ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার ও ইঞ্জিন চালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালের মে মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও খুলনা জেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বছরের ১১ মে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সভা হয়। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গত বছরের ২০ মে কার্যকরের কথা থাকলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে কিভাবে ইজিবাইক ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বৈঠকে সে বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
