গৌরীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে কৃষকের অনশন-বিক্ষোভ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:২১
ইরিবোরো মওসুমে চারা রোপণের সময় প্রায় শেষ হতে চললেও ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের বড়ইকান্দা গভীর নলকূল-২ কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় প্রায় ২১৫ একর জমিতে কৃষকরা বোরো আবাধ করতে পারছে না। 
 
দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে শতাধিক কৃষক ‘বিদ্যুৎ দাও নইলে মুখে বিষ দাও’ শ্লোগানে শনিবার ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, ফসলি জমিতে অনশন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। 
 
বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসেও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় এলাকার ৩৯১জন কৃষক প্রায় ২১৫একর জমিতে এখনও চারা রোপণ করতে পারছে না। বীজতলায় মরছে চারা, পুড়ছে ফসলের মাঠ, কাঁদছে কৃষক-তবু গলছে না বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের হৃদয়। ফসল না বাঁচলে আমরা বাঁচবো না- আমাদের মেরে ফেলুন, মুখে বিষ দিন এভাবেই কষ্টের কথা তুলে ধরেন বড়ইকান্দা গ্রামের মৃত রোসতম আলীর পুত্র কৃষক মো. আল আমিন। 
 
তিনি জানান, এ গভীর নলকূপের অধিনেই আমার ২একর ৫০শতাংশ জমি। এখানে ফসল না হলে ২ ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই। কৃষকের এই ব্যতিক্রমী সমাবেশে তার পুত্র জয় হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, আমাদের বাঁচান। অনুরূপভাবেই ৪ কন্যা আর ১পুত্রের জনক মৃত এলাহি বকসের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক জানান, এক একর ২০শতাংশ জমির গাছের চারা বীজতলায় লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। IMG0
 
কৃষকরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের দাবিতে মাওহা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এরপরেই কৃষকরা হাতে ধানের চারা নিয়ে চাষকৃত শুকনা জমিতেই শুয়ে ব্যতিক্রমী অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সংগঠনের ম্যানেজার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ফকিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, ফজলুর রহমান, মো. আল আমিন, আব্দুস সোবহান, বাবুল মিয়া, হলুদ মিয়া, আব্দুর রশিদ, ফজলুল হক, লিটন মিয়া, গণি মিয়া, মোজাম্মেল হক প্রমুখ। ম্যানেজার বলেন, এ সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭৫জন। তবে সেচে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫শতাধিক। 
 
গৌরীপুর কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ আচারণ কখনও মেনে নেয়া যায় না। এ দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ কে কৃষকের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে।