হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশ দল যখন ব্যাটিং শুরু করলো, তখন থেকেই চ্যালেঞ্জ ছিল ফলোঅন এড়ানো। গতকাল টেস্টের তৃতীয় দিন দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, সে চ্যালেঞ্জ কিছুতেই পার করা সম্ভব না। এখনও বাংলাদেশ সে লক্ষে পৌঁছাতে পারেনি। তবে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিংয়ে এখন ফলোঅন এড়ানোর কথাটা ভাবতে পারছে বাংলাদেশ দল।
গতকাল দিন শেষে বাংলাদেশ ৩২২ রান তুলেছে ৬ উইকেট হারিয়ে। এর আগে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত।
আগের দিন শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দল ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারিয়ে ফেলেছিল। ১ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল গতকাল তারা। সকালে স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ৩ রান যোগ হতেই ফিরে যান তামিম। মুমিনুল হকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তিনি রানআউট হন আগের দিনের সেই ২৪ রানেই।
আট ওভারের মধ্যে উমেশ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন মুমিনুল হকও। এরপর বাংলাদেশকে প্রথম প্রতিরোধের স্বাদ উপহার দেন সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। দুজনে ৪৫ রান যোগ করেন। ২৮ রান করা রিয়াদের বিদায়ে এই জুটি ভাঙে। আর এরপরই মুশফিক পর পর দুটি দারুণ জুটি করে বাংলাদেশকে খেলায় রাখেন।
প্রথমে সাকিব ও মুশফিক যোগ করেন ১০৭ রান। সাকিব তার স্বভাবসূলভ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকেন। এই উইকেটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার সম্ভাবনায় থাকা রবিচন্দন অশ্বিনকে স্থির হয়ে বোলিংই করতে দেননি। একটার পর একটা কাভার ড্রাইভে ব্যস্ত রেখেছেন ভারতীয় ফিল্ডারদের। অন্য প্রান্তে মুশফিক ছিলেন দারুণ শান্ত।
শেষ অবদি ওই অশ্বিনেরই একটা লাফিয়ে ওঠা বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেন সাকিব; সেঞ্চুরি থেকে তিনি তখন আর মাত্র ১৮ রান দূরে। ১০৩ বলে ১৪টি চারে সাজানো ৮২ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন তিনি।
সাকিব ফেরার পর সাব্বির উইকেটে এসে মুশফিককে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি। মাত্র ১৬ রান করে ফিরেছেন সাব্বির। তবে এরপরই মিরাজকে নিয়ে ৮৭ রানের অপরাজিত একটা জুটি করেন মুশফিক।
অলরাউন্ডার মিরাজ বোলিংয়ে চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স করলেও আগের ৪ টেস্টে ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি। অবশেষে তিনিও দারুণ ঝলমলে একটা ইনিংস খেললেন। ১০৩ বলে ১০টি চারে সাজানো ৫১ রানের একটা ইনিংস খেলে অপরাজিত রইলেন। আর পুরো বাংলাদেশের ইনিংসটাকে নিজের ব্যাটে আটকে রাখা অধিনায়ক মুশফিক ২০৬ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত আছেন; ইনিংসে তার ১২টি চার।
ইত্তেফাক/নূহু
