বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ৪৫ জাহাজ

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৬

লাইটার শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙরে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে প্রায় ৪৫ জাহাজ অপেক্ষা করছে। চট্টগ্রাম থেকে ২৯ রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে আছে। মাঝিরঘাট ও বাংলাবাজার এলাকায় ১৬ ঘাটে পণ্য উঠানামাও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে আবারো জাহাজ জটের আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকার ঘোষিত বেতন-ভাতা কার্যকরের দাবিতে বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে গত শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করে লাইটার শ্রমিকরা। এতে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। কর্মবিরতি প্রসংগে বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে জানান, আমরা কেন কর্মবিরতি পালন করছি তা প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের কথা বলেছি।

এদিকে জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কর্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম ইত্তেফাককে জানান, সরকার ঘোষিত বর্ধিত বেতন-ভাতা আমরা দেব না বলিনি। সামনে আমাদের সংগঠনের নির্বাচন। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকরের কথা শ্রমিকদের বলেছি। কিন্তু তারা অহেতুক কর্মবিরতি পালন করছে। সকল লাইটার শ্রমিক সংগঠন এই কর্মবিরতির সঙ্গে একমত নয়। একটি গ্রুপ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ধর্মঘট ডেকেছে বলে দাবি করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানায়, বন্দর বহির্নোঙরে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে প্রায় ৪৫টি বড় জাহাজ অপেক্ষা করছে। এসব জাহাজে ভোগ্য পণ্য, সার, গম, সিমেন্ট ক্লিংকার, কয়লা ও সেতু নির্মাণ সামগ্রী রয়েছে। গত বছরও জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা টানা এক সপ্তাহের বেশি ধর্মঘট পালন করে। এতে ভোগ্য পণ্যের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয় জাহাজ জট।

বহির্নোঙরের মাদার ভ্যাসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস করে লাইটারেজ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশে প্রায় দেড় হাজার লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় বিশ হাজার শ্রমিক কর্মরত। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও বাংলাবাজার এলাকায় আমদানিকৃত পণ্য খালাস ও রপ্তানিজাত পণ্য বোঝাই করার ১৬ ঘাট রয়েছে। গতকাল রবিবার দেখা গেছে, এসব ঘাটে পণ্য উঠা নামা বন্ধ রয়েছে। ঘাট শ্রমিকরা বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। প্রতিটি ঘাটে ২/৩টি করে লাইটারেজ জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষা করছে।

ইত্তেফাক/নূহু