জরাজীর্ণ ও খোলামেলা কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনের চালার নীচে মাটিতে বসেই শিক্ষা গ্রহণ করছে ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের ছৈদাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। স্কুলে পৃথক কোনো শ্রেণিকক্ষ না থাকায় সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
স্কুল ঘরের বেড়া, দরজা-জানালাসহ নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ স্কুলে। দূর থেকে দেখলে স্কুলটিকে গ্রামের একটি ভাঙা ঘরের মতো মনে হয়। প্রাথমিক স্কুলের সকল বৈশিষ্ট্যই এখানে অবর্তমান। ছৈদাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী সামছুল ইসলামের দান করা ৩৩ শতক ভূমির উপর গ্রামের প্রধান সড়ক সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ছৈদাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও সরকারি বেসরকারি উল্লেখযোগ্য কোনো অনুদান এ বিদ্যালয়ের ভাগ্যে জোটেনি।
এদিকে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক অরুণ কান্তি রায় কোনো কিছু না বলেই প্রায় চার বছর আগে বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সহকারী শিক্ষিকা মিনু বিশ্বাস বিয়ের জালে আবদ্ধ হয়ে চলে যান বিদ্যালয় ত্যাগ করে। অপর শিক্ষিকা ইতি মন্ডলও বছর খানেক ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বর্তমানে নিজেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দাবি করা দিপালী বিশ্বাস ও সমপ্রতি মৌখিক নিয়োগ পাওয়া গ্রামের মেয়ে শিল্পী বেগমের মাধ্যমেই চলছে এ স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম। বর্ষা মৌসুমে স্কুলের চতুর্দিক পানিতে নিমজ্জিত থাকাবস্থায় বছরের প্রায় ৩-৪ মাস অঘোষিতভাবে স্কুলটি বন্ধ রাখতে হয়। ওই সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাসিম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দিপালী বিশ্বাস স্কুলটি দ্রুত সরকারিকরণের দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
