বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধে এপ্রিল থেকে আইন প্রয়োগ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য বড় সমস্যা হলো চ্যানেল বেড়েছে কিন্তু বিজ্ঞাপনের বাজার ছোট হয়েছে। একই সঙ্গে টেলিভিশনগুলো বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য নিজেরা প্রতিযোগিতা করে বিজ্ঞাপনের রেট কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনলাইনে অনেক বিজ্ঞাপন চলে গেছে। এ সমস্ত কিছু কারণে টেলিভিশনগুলোতে সংকট তৈরি হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে আমি মনে করি একটি বড় ভূমিকা রয়েছে কেবল অপারেটরদের। কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি না দেখানোর শর্তেই কেবল অপারেটররা লাইসেন্স নিয়েছেন। এখন যদি কেউ দেখায় সেটি দণ্ডণীয়।’

গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার রুমে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত ‘সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিদেশি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচার না করতে আমরা এরমধ্যেই দুই দফা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আগামী ১ এপ্রিল থেকে আইন প্রয়োগ করা হবে। আমি আশা করব এ শিল্পকে বাঁচাবার স্বার্থে কেবল অপারেটরা সহযোগিতা করবেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ৩ কোটি গ্রাহক থেকে বিপুল একটা রেভিনিউ আসে। এ রেভিনিউ শেয়ার চ্যানেল মালিকরা পেতে পারে কিনা এমন আলোচনা এখানে এসেছে। আমি আশা করব কেবল অপারেটদের নিয়ে আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা প্রস্তাব দিলে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করব। এতে সরকারের কোনো অসুবিধা নেই। টেলিভিশনগুলো টিকে থাকার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। সংগঠনের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন— বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, বেঙ্গল গ্রুপ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আসফার খায়ের প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, সরকার সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে কোনো প্রণোদনা দেয় না। অথচ চ্যানেলগুলো সরকারের নানারকম সংবাদবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। দিনে বিটিভির একটি নিউজ সম্প্রচার করে। কিন্তু সরকার কোনো টাকা দেয় না। তাছাড়া, চ্যানেলের সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো ও চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। মালিকপক্ষ যখন তখন চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। এসব বিষয়ে চাকরি নিশ্চয়তার বিধান ও আইন প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অনলাইন টেলিভিশন (আইপিটিভি) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আইপিটিভির কোনো লাইসেন্স তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি। বিটিআরসি থেকেও কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয় না। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইপিটিভিও একটি নীতিমালার মধ্যে থাকা দরকার। কেননা কেউ ৫০ কোটি বা ১শ কোটি টাকা দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করবে আর কেউ মাত্র ১০ লাখ টাকা দিয়ে তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। এটা বৈষম্যমূলক। এটা একটা নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। সরকার এক টাকা রেভিনিউ পাবে না, তার পক্ষপাতী আমি না।’