নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাড়া রেললাইনের দু'পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই দাবি করছে নগরবাসী।
এসব দোকানপাটের কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রেনে কাটাও পড়ছে মানুষ। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে রেল লাইন দখল করে গড়ে উঠা দোকানে ফল কিনতে এসে নিহত হয়েছেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। এদিকে বিপদজনক হওয়া সত্যেও এসব দোকানের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে।
এর ফলে এসব স্থানে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানিসহ অঙ্গহানির ঘটনা। নারায়ণগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরেই এসব দোকানপাট উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার জায়গা দখল করে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রেললাইনের দু'পাশে দোকানপাট ভাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রতিদিন অবৈধভাবে টোল আদায় করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনগামী পুরো রেল লাইনের পাশেই চলছে দখলদারিত্ব। রেললাইনকে ঘিরে গড়ে উঠছে ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রেল লাইনের উভয় পাশঘেঁষে বিপদজনকভাবে বিভিন্ন প্রকার ফল, হলুদ, মরিচ, শুঁটকি, আসবাবপত্র ও কাঁচাবাজারসহ প্রায় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট বসেছে। এখানে রেললাইনের সঙ্গে লাগিয়ে বিভিন্ন ঝুড়ি রাখা হয়। ট্রেন আসলে ক্রেতা-বিক্রেতারা লাইন থেকে সরে দাঁড়ায়। অনেক সময় অসাবধনতাবসত তাড়াহুড়ো করে কেউ কেউ সরতেও পারেন না। যার ফলে ট্রেনে কাটা পড়েন অনেকে। এমন ঘটনা নারায়ণগঞ্জে অসংখ্য ঘটেছে।
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, রেল লাইনের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সবগুলো দোকানই অবৈধ। আমাদের একার পক্ষে উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। এজন্য বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারাও এসে উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকেও উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারপরেও উচ্ছেদ হচ্ছে না। সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলে আবার দখল হয়ে যায়। আমি নিজেও অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি।
ইত্তেফাক/জামান
