পুড়ছে মানুষ, দায় কার?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২২:৫০

লাগছে আগুন, পুড়ছে মানুষ। পুড়ছে ভবন। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে জানমালের। কিন্তু দায় কার? যদিও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ দায় নেয় না বরং এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত থাকে। এমনকি প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরব হয় সরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিরা। কিছুদিন গেলে তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ঘটনা ঘটে, গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। দায়ের হয় মামলা। অনেক সময় সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও প্রকাশ পায় না। এমনকি মামলার বিচারও হয় না। যারা দায়ী তারা যেন অনেকটা নীরবে পার পেয়ে যায়।

নিমতলীর পর চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড। যে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। সেই আগুনের ঘটনার স্মৃতিতে মিলিয়ে না যেতেই বনানীর এফ. আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড। বহুতল ভবনের এই আগুনে পুড়ে বৃহস্পতিবার মারা গেল ২৬ জন। যদিও ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ছিল না পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। রাজউকের অনুমোদনের বাইরে অবৈধভাবে ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এক যুগ চলে গেলেও শুধু ভবন মালিককে নোটিশ দিয়েই দায় সেরেছে সরকারি সেবা সংস্থাগুলো। কিন্তু আইন মেনে চলাতে বাধ্য করতে পারেননি ভবন মালিককে। অগ্নিকাণ্ডের পরই ভবনটি নির্মাণে এত অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে সেটা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ভবন মালিকদের। ওই আগুনে স্বজন হারানোর বেদনা শেষ না হতেই দু’দিন পর আগুন লাগে গুলশান-১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেটে। এতে পুড়ে যায় দুই শতাধিক দোকান। নিঃস্ব হন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নগরবিদ ইকবাল হাবিব ইত্তেফাককে বলেন, বছরের পর বছর শাস্তিহীন সংস্কৃতি জিইয়ে রাখার কারণেই নগরে আগুনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সতর্কীকরণের মধ্যে দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে সেবা সংস্থাগুলো। শুধু যথাযথ আইন প্রণয়নই নয়, তা মানতে নগরবাসীকে বাধ্য করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে সারাদেশে লক্ষাধিক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ আগুনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলারও বিচার করে কাউকে দায়ী করা যায়নি। এই নগরবিদ বলেন, আগুনের ঘটনাগুলো বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে আমরা যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেই তাহলে শুধু মালের ক্ষতি হবে না, ব্যাপকভাবে জানেরও ক্ষতি হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য এখনই ঢাকার প্রতিটি ভবনের কমপ্লায়েন্স অডিট করে এগুলোর বসবাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার কর্মসূচিভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। যেভাবে আমরা গার্মেন্টস শিল্পকে ক্রেতাদের চাপে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছি।

প্রসঙ্গত ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে আগুনের ঘটনায় মারা যায় ১২৩ জন সাধারণ মানুষ। ওই ঘটনার পর পুরান ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল সরকারি তদন্ত কমিটি। ৯/১০ বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ৭০ জন। এ প্রসঙ্গে এক রিট মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, এটাকে দুর্ঘটনা বলা যাবে না, দায়িত্বে অবহেলা। কাউকে না কাউকে এর দায় নিতে হবে। নিমতলী ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতির কোনো কমতি নেই। কিন্তু তার একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়।