আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ম্যাজিক ফিগার ২৭২ থেকে অনেক দূরে থমকে যেতে পারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তারা পেতে পারে ১৮২ আসন। ইউপিএ ২১৬ এবং অন্যরা ১৪৪টি আসন পেতে পারে। ভোটের মুখে এমন এক চমকপ্রদ সমীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে শোরগোল পড়েছে। সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে ‘বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা’র তথ্য তুলে ধরার দাবি করেছে ?নাগপুর টাইমস পত্রিকা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত নাগপুর। সেখান থেকে এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রত্যাশিতভাবেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সংবাদপত্রটির দাবি, অন্যান্যবারের মতো এবারো লোকসভা নির্বাচনের মুখে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা করেছে বিজেপি। তার রিপোর্ট তাদের হাতে এসেছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেছেন। সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে পেতে পারে ১৫১টি আসন। আর এনডিএ-এর শরিকরা আরো ৩১টি। সব মিলিয়ে ১৮২। ইউপিএ জোটে জাতীয় কংগ্রেস এককভাবে পেতে পারে ১৪১। আর তাদের শরিক দলগুলো পেতে পারে ৭৫টি। সব মিলিয়ে ২১৬। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতীয় রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। তারা পেতে পারে ৩৬ আসন।
বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক দলের জোট পেতে পারে ৪৫টি আসন। জাতীয় কংগ্রেস পেতে পারে ৫টি আসন। বিজেপি নেমে আসতে পারে ২৯-এ। তাদের শরিক দল পাবে ১টি। গতবার উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৭১ আসন পেয়েছিল। শরিকরা ২টি।
সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ২টি, কংগ্রেস ৪টি। তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৬। মহারাষ্ট্রে ৪৮ আসনের মধ্যে কংগ্রেস ১০, এনসিপি ১০টি। বিজেপি ১৬, শিবসেনা ১২টি। বিহারে ৪০ আসনের মধ্যে ইউপিএ পেতে পারে ১৮টি। বিজেপির দখলে থাকতে পারে ১৩ এবং তাদের শরিক দলগুলো পেতে পারে ৯টি। ৩৯ আসনের তামিলনাড়ুতে এডিএমকে??র সঙ্গে জোট করেছে বিজেপি। দেখা যাচ্ছে, এনডিএ পেতে পারে মাত্র ৫টি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ডিএমকে জোট পেতে পারে ৩৪টি। কর্ণাটকে ২৮ এর মধ্যে কংগ্রেস ১৪টি এবং তাদের সঙ্গীদের ৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা। বিজেপি পেতে পারে ৯টি।
সমীক্ষায় বলা হয়, সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে জেতা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভালো ফল করবে জাতীয় কংগ্রেস। মরুরাজ্য রাজস্থানে ২৫ আসনের মধ্যে এবার কংগ্রেস ১৫টি, বিজেপি ১০টি আসন পাওয়ার কথা বলেছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ এ সমীক্ষা। মধ্যপ্রদেশে সমানে ?সমানে টক্কর হবে। কংগ্রেস ১৪টি, বিজেপি ১৫টি। ছত্তিশগড়ের ১১টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৯টি, বিজেপি ২টি।
অন্ধ্রপ্রদেশে কংগ্রেস ৬টি, বিজেপি শূন্য। আঞ্চলিক দল ওয়াইএসআর পেতে পারে ১৯টি। ১৩ আসনের পাঞ্জাবে কংগ্রেস ১১, এনডিএ শরিক শিরোমণি অকালি দল ২টি। ১৪ আসনের ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস ৫, শরিক দল ৬ এবং বিজেপি পেতে পারে ৩টি। তেলেঙ্গানায় বিজেপি শূন্য। কংগ্রেস ২টি, টিআরএস ১৪ এবং এমআইএম ১টি। আসমে কংগ্রেস ৭টি, বিজেপি ৪টি, এনডিএ’র শরিক ১টি পেতে পারে। ওড়িশায় কংগ্রেস ১টি, বিজেপি ৪টি এবং বিজেডি ১৬টি। ত্রিপুরার দুটি আসন এবার পাবে বিজেপি। ২০ আসনের কেরালায় খাতা খুলতে পারবে না। বামেরা পেতে পারে ৭টি, কংগ্রেস ৯টি, ইউপিএ শরিক দলগুলো ৪টি। জম্মু ও কাশ্মিরে ইউপিএ ৪টি, বিজেপি ২টি আসন পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে ২৬ আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ২০টি আসন, কংগ্রেস ৬টি।
তবে এ সমীক্ষাটি মার্চের শুরুর দিকের। তারপর শনিবার উত্তরপ্রদেশে বিজেপি নতুন জোট সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে নিশাদ পার্টিকে। গত বছর এ নিশাদ পার্টিকে সঙ্গী করেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগির ছেড়ে আসা লোকসভা কেন্দ্র গোরখপুরে বিজেপিকে হারিয়ে দিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। এদিন বিজেপি শিবিরে যোগ দিল তারা। মহারাষ্ট্রেও জোট সঙ্গী শিবসেনা আলাদাভাবে লড়বে বলেছিল। তারা এনডিএ জোটে ফিরেছে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়েও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে জোটে পেয়েছে বিজেপি। ফলে পরবর্তী সমীক্ষায় এ হিসেবের অদলবদল হতেই পারে।
