ছাদ ভেঙে যাওয়ায় কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিত্সা সেবা। হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয়তলায় মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এ ওয়ার্ডের ছাদ ভেঙে পড়ছে, এখানে থাকলে নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে। এছাড়া চিকিত্সক সংকটে গত সাত মাস ধরে এ হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিতে ৪০ বছর আগে ৩০ বেডের এ হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হয়। হাসপাতাল ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়তলা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখানে ছাদের পলেস্তারা, ঢালাই ও বিমের ঢালাই খসে পড়ছে। ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। অনেক সময় পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী, নার্স ও চিকিত্সকরা আহত হচ্ছেন। এ কারণে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বারে সতর্কতা নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছে।
উপজেলার লাখিরপাড় গ্রামের বিল্লাল খন্দকার বলেন, হাসপাতালটি জরাজীর্ণ। ছাদ ভেঙে পড়লে মারা যাবো। তার থেকেও আমার শরীরের অবস্থা আরো খারাপ। টাইফয়েডে ভুগছি। নিরুপায় হয়ে হাসপতালে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ভর্তি হয়েছি। এখানে চিকিত্সা নিচ্ছি। চিকিত্সকরা ভর্তি করাতে চাননি। বাইরে ভালো চিকিত্সা পাবো না। তাই এ হাসপাতালেই চিকিত্সা নিচ্ছি।
উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের রাজা আলী মিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বাইরে চিকিত্সা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। তাই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে এখান থেকে চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশা করছি।
উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের নাসরিন বেগম বলেন, আগে এখানে সিজারিয়ানসহ ছোট অপারেশন করা হতো। কিন্তু গত সাত মাস ধরে এখানে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এতে আমাদের মতো প্রসূতিরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গোপালগঞ্জ জেলা সদর বা কোটালীপাড়ার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে এ সেবা নিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স জ্যাকলিন রুনু বৈদ্য বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় ছাদের পলেস্তারা খসে পায়ে পড়ে আহত হয়েছি। আমাদের বসার রুমের ছাদের অবস্থা ভালো নয়। ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, প্রকৌশল বিভাগ অনেক আগেই এ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। আমরা এখানে রোগী রাখতে চাই না। কিন্তু তারা জোর করে এখানে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা সেবা নেন। তাই আমরাও সতর্ক নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছি। তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালের এ ভবন ভেঙে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখানে চিকিত্সক সংকটও প্রকট। সাত মাস ধরে হাসপাতালে গাইনি ও অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। তাই অপারেশন বন্ধ রয়েছে। চিকিত্সক সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন তিন/চারশ’ রোগীকে আমরা চিকিত্সা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
