আমতলী উপজেলায় অর্ধশতাধিক সরকারি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সকল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে অফিস করাসহ স্ত্রী পরিবার পরিজন নিয়ে আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাস করছেন। দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরে অফিসের জন্য ৭০ থেকে ৮০টি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলো নির্মাণের পর সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম বলেন, ভূমি অফিসে নাগরিকের কাগজপত্র অনেক বেশি এবং খুব মূল্যবান। তাছাড়া উপজেলার মধ্যে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস হওয়া সত্ত্বেও এর বেহাল অবস্থা সবচেয়ে বেশি। পাশেই রয়েছে টিনসেডের ইউনিয়ন ভূমি অফিস তারও একই অবস্থা।
১৯৬৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য বর্তমান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে অফিস এবং আবাসিকের জন্য কমপক্ষে নয়টি ভবন নির্মাণ করা হয়। সংস্কারের অভাবে ছয়টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এরশাদ সরকারের সময় উপজেলা পরিষদের কম্পাউন্ডের মধ্যে আনসার বিডিপি, মহিলা বিষয়ক, সমাজসেবা অফিসের জন্য আধাপাকা টিনসেডের ভবন নির্মাণ করা হয়। এসকল ভবন দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় টিনে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বর্ষার দিনে পানি পড়ে। ফলে ওই সকল অফিসের অনেক মূল্যবান কাগজপত্র ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া দেয়ালে ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ছে।
আমতলী ডাকবাংলো সড়কে রয়েছে পুরাতন হাসপাতালের ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি, পাকিস্তান আমলে নির্মিত দুটি এবং এরশাদ সরকারের আমলে নির্মিত তিনটি ভবন। ভবনগুলো সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এভাবেই বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধশতাধিক অফিস ভবনে অফিস করাসহ আবাসিক ভবনে বসবাস করে আসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, যে সকল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উপজেলা পরিষদের জন্য নতুনভাবে কমপ্লেক্সে ভবন তৈরি করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
ইত্তফোক/নূহু
