শতবছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৫:৪৬

১০৩ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কুমিল্লা জেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি ও কলেজ।

এই একাডেমি ও কলেজটিতে পড়াশুনা করছে প্রায় ২১শ ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৪০জন। একাডেমিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারে রয়েছে ১১৫৫জন লেখকের ১৬শ বই। এ ছাড়া সাময়িকী পত্র-পত্রিকা তো আছেই। বিজ্ঞানাগারে ২০৪টি আইটেমে ২ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও একটি কম্পিউটার ল্যাবসহ মোট দুটি ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৭.৬৫ একর। একাডেমির ভিতরে রয়েছে তিনটি দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন ও একটি পাকা মসজিদ।

১৯১৪ সালের ৮ জানুয়ারি জাহাপুর এস্টেটের জমিদার গিরিশ চন্দ্র রায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তার বাবা কমলাকান্ত রায়ের নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি। বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারি স্বীকৃতি পায় ১৯১৭ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলা বিভাগে শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ন করলেও ১৯৬৬ সালে বিজ্ঞান ও ১৯৯৯ সালে ব্যবসা বিভাগ চালু করা হয়। ১৯৬৮ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম ব্যাচে ১৩জন অংশগ্রহণ করে সকলেই উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে একজন প্রথম বিভাগ, নয়জন দ্বিতীয় বিভাগ ও তিনজন তৃতীয় বিভাগ পায়। ১৯৯৬ সালে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হলে সে থেকে জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি ও কলেজ নামে অবিহিত হয়। বর্তমানে এটি ‘জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি ও কলেজ’ নামে পরিচিত।

১৯৯৮ সালে তত্কালীন স্থানীয় এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সহযোগিতায় মাধ্যমিক শাখায় ডাবল সিপ্ট চালু হয়।

এ বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে যেমন সুনাম অর্জন করেছেন,  তেমনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখনো করছেন। বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী হলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মরহুম আবদুস সালাম, এসএকেএম শফিক পিইঞ্জ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মরহুম খোরশেদুজ্জামান, আনোয়ারুজ্জামান, খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক রাজস্ব বিভাগের সার্কেল অফিসার মরহুম সামসুর রহমান, বাংলাদেশ সাঁটলিপি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও অধ্যাপক মরহুম জয়নাল আবেদিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক চিফ ইনস্ট্রাকটর মরহুম রুসমত আলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসেম, ঢাকা ওয়াসার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দেলেয়ার হোসেন প্রমুখ।

একাডেমির প্রাক্তন ছাত্র সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এই স্কুলে পড়ালেখা করে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ছাত্ররা অনেক ভালো জায়গায় চাকরি করছে। এখনো আমরা গর্বের সঙ্গে বলি আমরা জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি ও কলেজের ছাত্র। আশা রাখি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো এ গিয়ে যাবে।

জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল হক পাটোয়ারী জানান, ২০০৮ সালের ২১ এপ্রিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এক দিন দেশ পরিচালনার  নেতৃত্ব দেবে বলে মনে করি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মানুষ গড়ার কারখানায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।

ইত্তফোক/নূহু