বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় ২১শে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারছে না গ্রামাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা জানে না '২১শে ফেব্রুয়ারি' মানে কি? তারা শুধু জানে '২১শে ফেব্রুয়ারি' মানে সরকারি ছুটির দিন।
২১শে ফেব্রুয়ারি এলেই গ্রামাঞ্চলে শহীদ মিনার বিহীন বিদ্যালয়ে দায়সারাভাবে পালন হয় দিবসটি। এমনকি কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
ঠিক এমনভাবে জানা যায়, দেশের বৃহত্তম উপজেলা হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর রায়পুরার কথা। এ উপজেলায় রয়েছে ১৪৩টি কিন্ডারগার্টেন, ১৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৫টি মাধ্যমিক স্কুল ও সমমান পর্যায়ের বিদ্যালয়, ছয়টি কলেজসহ প্রায় চারশ' শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে ২৬টি, মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের বিদ্যালয় এবং কলেজে ৪০টিসহ একশ' প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে নিজস্ব শহীদ মিনার থাকতে হবে কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশনা থাকলে এ উপজেলায় এখনো তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার।
শহীদ মিনার না থাকায় সেখানকার শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা'র দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে পারছে না। যার ফলে এ দিবসের ইতিহাস পরিচিতি থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা।
আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার থাকতে হবে এমন নির্দেশনা রয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি বলে আমি মনে করি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, মাতৃভাষা বাংলার জন্য এদেশের অসংখ্য তরুণ প্রাণ দিয়েছেন। এর সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জানার জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ প্রয়োজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারগিছ সুলতানা বলেন, আমার জানা মতে এ উপজেলার সবকটি বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার রয়েছে।
কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সাথে তিনি বলেন, প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করতে হবে সরকারিভাবে এমন কোন নির্দেশনা নেই। তবে শহীদ মিনার থাকলে একুশের ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য জানতে সহজ হতো শিক্ষার্থীদের।
ইত্তেফাক/জামান
