যৌন হেনস্থা, চিরকুট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৩

কুষ্টিয়ার মিরপুরে চিরকূট (সুইসাইড নোট) লিখে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগ, বখাটেদের যৌন হেনস্থার কারণে লজ্জায় মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় অপহরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে আত্মহত্যার ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উত্ত্যক্তকারী বখাটেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী আক্তার মুন্নী (১৫) তার চাচাতো বোনের বিয়ে উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আমলা বাজারে  ফুল কিনতে যায়। পথে এলাকার বখাটে হাশেম রাজের ছেলে জয়নাল (২২), আনছের রাজের ছেলে মিঠুন (২৬), রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর (২৫), তাজমত রাজের ছেলে রাজু (২৪) এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ (২২) তাকে জোরপূর্বক পাশের আমলা আলু বীজ খামারে নিয়ে যায়। তার চিত্কারে লোকজন এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ মুন্নীকে উদ্ধার করে মহিলা ইউপি সদস্য রেজেলা খাতুনের সঙ্গে বাড়িতে পাঠান। পথের মধ্যে বখাটেরা রেজেলা খাতুনকে  হুমকি দিয়ে অটোরিকশা থামিয়ে মুন্নীকে আবার ধরে স্থানীয় একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। বাড়ি ফিরেই রাতে চাচার বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুন্নী। টের পেয়ে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মুন্নীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার পড়ার টেবিলে একটি চিরকূট পাওয়া যায়। সেখানে বখাটেদের নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেছে সে।

নিহত মুন্নী উপজেলার কাতলমারি গ্রামের হেকমত আলী ভাষার মেয়ে। পিতার উদ্দেশে চিরকূটে মুন্নী লিখেছে, ‘আব্বু আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমি জানি না কী করে, কী হয়ে গেল। আমি তোমার মান-সম্মান রক্ষা করতে  পারলাম না।’ যৌন হেনস্থার পিছনে জয়নাল-মিঠুনসহ তার সহযোগীরা জড়িত বলেও মুন্নী চিরকূটে উল্লেখ করেছে। স্বজনরা অভিযোগ করেন, মুন্নীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এ কারণেই এতটুকু একটি বাচ্চা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত বখাটেদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী।

এদিকে এ ঘটনায় মুন্নীর বাবা নির্যাতনকারী ওই পাঁচ বখাটের নামে মিরপুর থানায় মামলা করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নির্যাতনের প্রকৃতি জানতে মেয়েটির শরীর থেকে চিকিত্সক নমুনা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ওসি আবুল কালাম জানান, মুন্নীর পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মুন্নীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এই ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।