বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে সরকার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার কোনো সর্বশেষ প্রযুক্তি নেই। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত পৌঁছানোর জন্য উন্নতমানের বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। নেই উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় মই। অথচ উন্নয়নের ‘চাপাবাজি’ চলছে। সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের মুখে উন্নয়নের বুলি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত।
গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি কারাগারে বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। রিজভী বলেন, সরকার দাবি করে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়ে মহাকাশ জয় করেছে, অথচ মানুষ বাঁচানোর কোনো আগ্রহ নেই তাদের। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে দমন করার জন্য কত যে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। অথচ ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নের ব্যাপারে সরকার নির্লিপ্ত।
বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, একটি বেদনাঘন শোক কাটতে না কাটতেই আরেকটি গভীর শোক আমাদের আচ্ছন্ন করছে। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে মর্মস্পর্শী মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা দেশবাসীকে নির্বাক করে দিয়েছে। প্রতিদিনই নানা দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকার বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটিও প্রকাশ করে না। সুশাসন থাকলে এই অব্যবস্থাপনা চলত না। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি, উঁচুতলার ভবনগুলোর কোনো জরুরি নির্গমন পথ নেই, অগ্নি-প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। অথচ সেটা তদারকির দায়িত্ব সরকারের। শুধু লোভ ও লাভের জন্যই ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
খালেদার মুক্তি দাবি: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে রাজপথ শূন্য ও আওয়াজহীন থাকবে না বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্বৈরতন্ত্রের বন্দিশালা থেকে যিনি বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন তাকে সুকৌশলে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রবিনাশী ভয়ঙ্কর একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। এই মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নইলে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
