১৪ হাজার বস্তাবাহী একটি কার্গো জাহাজ নারায়ণগঞ্জের শাহ সিমেন্টের কারখানা থেকে যশোরের নোয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়া দেয়। ভুয়া ভ্যাট চালান নিয়ে ছয় লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে শাহ সিমেন্টের ঐ জাহাজটিকে আটক করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা।
ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল শীতলক্ষ্যা নদীতে ওই জাহাজ থামিয়ে চালানপত্র পরীক্ষা করে। কারখানায় রক্ষিত চালান কিংবা ক্রয় ও বিক্রয় রেজিস্টারে ওই চালান সংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিল না তাদের কাছে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছে বলে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান পরিচালনাকারী দল নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাত্ পণ্য পরিবহনকালে কিংবা ব্যবসায়ীর কাছে ভ্যাটের চালান থাকলেও বাস্তবে নেই। ফলে প্রতি মাসে ভ্যাট অফিসে রিটার্ন জমাদানকালে ওই অর্থ ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযান পরিচালনাকারী দল, কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের কিছু নথিপত্রও জব্দ করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ওই জাহাজে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের সিমেন্ট ছিল, যাতে ছয় লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বৃহত্ করদাতা ইউনিট বা এলটিইউ-ভ্যাট অফিসে নিবন্ধিত। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের পাশাপাশি দাবি নামা জারি করেছে এলটিইউ-ভ্যাট অফিস।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, যে কোনো পণ্যের ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণস্বরূপ চালানপত্র দেওয়া হয়। এটি মূসক-১১ নামে পরিচিত। এখন অনেক সময়ই ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কিনা- তা নিশ্চিত হতে রাস্তায় এসব চালান পরীক্ষা করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের ফাঁকি দেওয়ার জন্যই ওই ভুয়া চালান তৈরি করা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এর মাধ্যমে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
