রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কোচিং সেন্টারে পড়তে যাওয়ার পথে অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন তারিখে পৃথকভাবে অপহৃত ওই তিন শিক্ষার্থীর বাবা মোহনপুর থানায় পৃথক মামলা করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কেশরহাট পৌরসভার রায়ঘাটি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ার জন্য সকাল সাড়ে ৮টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে সে অপহরণের শিকার হয়। একই ভাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে প্রাইভেট পড়ার জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ৮ম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে অপরহণের শিকার হয়। এর ১৫ দিন আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার লালইচ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে অপরহণের শিকার হয়।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বর্তমান সরকার শিক্ষার জন্য সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এক শ্রেণির অর্থ লোভী শিক্ষকরা শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে অভিভাবকরা তাদের স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এক শ্রেণির বখাটে কোচিং সেন্টারের পথে ছাত্রীদের প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে। তাদের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হলে ছাত্রীদের অপহরণ করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর অভিভাবকরা উদবেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছেন। কোচিং সেন্টারের নামে রমরমা ব্যবসা বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল। তবে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ভিকটিমদের উদ্ধারসহ অপহরণকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম
