কুমিল্লায় রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট, গুদামঘর ও সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। সরকারের নিকট থেকে সম্প্রতি ওই প্রভাবশালী ক্ষতিপূরণ পেয়েও স্থাপনা অপসারণ না করে পুরনো স্থাপনার পাশে নতুন করে আরো সেমিপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এতে ওই স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়াসহ জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাগমারা বাজার সংলগ্ন অশ্বতলা এলাকায় রেলওয়ে ক্রসিং লাগোয়া স্থানে দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এরইমধ্যে রেলপথের উন্নয়নে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। ওইসব প্রকল্পের আওতায় আখাউড়া-লাকসাম রেলপথের ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার রেল লাইন সংলগ্ন স্থাপনাগুলো অপসারণের নির্দেশনা দিয়ে স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। ওই নির্দেশনার আলোকে বাগমারা রেলওয়ে ক্রসিং এলাকার রেল লাইনের উভয় পাশের শতাধিক দোকানি ক্ষতিপূরণ পায় এবং তাদের স্থাপনাগুলো অপসারণ করে নেয়। কিন্তু স্থানীয় এক প্রভাবশালী ও তার ছেলে সরকারের নিকট থেকে রেল ক্রসিং লাগোয়া পূর্ব পাশে নির্মিত দোকানঘরের ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা পেলেও এ পর্যন্ত তা ভেঙে অপসারণ না করে ওই স্থাপনার পাশে আরো দোকান ও গুদামঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ওই রেলক্রসিং সংলগ্ন স্থানের রেলওয়ের কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে সিএনজি স্টেশন করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ওই এলাকার আবদুর রহিম, আনছার আলী, ইদ্রিস মিয়া, আইয়ুব আলীসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, ক্ষতিপূরণ পেয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা পুরনো স্থাপনা অপসারণ না করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে নতুন করে আরও সেমিপাকা টিনশেড স্থাপনার নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এসব স্থাপনা ও সিএনজি স্টেশনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এ রেলক্রসিং এলাকায় প্রায়সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিগত সময়ে এখানে ট্রেনে কাটা পড়ে গেটকিপার আবদুল হান্নানসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সকলের দোকানঘর অপসারণ করলেও রহস্যজনক কারণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্মিত আবদুল মান্নান ও তার ছেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে নিরব ভূমিকা পালন করছে। তারা এসব অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদের জন্য দাবি জানান।

রেলওয়ে কুমিল্লা স্টেশনের প্রকৌশলী শাহাদাত্ হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই স্থাপনা অপসারণসহ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।

রেলপথের আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন প্রকল্পের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরও পুরনো স্থাপনা অপসারণ না করে আরো নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জেনেছি। ওই স্থানটি পরিদর্শন করে সহসাই অবৈধ স্থাপনা অপসারণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।