কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনার গুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫০
৪০ বছর আগে নির্মীত মাদরাসায় শহীদ মিনার নেই।  বছরের পর বছর মাদরাসা ক্যাম্পাসের এক কোণে  মাটিতে আল্পনা আকিঁয়ে, সেখানেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা করা হতো। এবার-ই প্রথম ওই মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী কলাগাছ কেটে শহীদ মিনার তৈরি করেছিল।
 
২১ শের প্রথম প্রহরে ওই মিনারেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা ছিল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু ভোরে দুর্বৃত্তরা কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনারটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাউপাড়া দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
 
এ ঘটনায় শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গুঁড়িয়ে দেয়া শহীদ মিনারেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীরা।
 
শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোক্তা ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ইসমাইল হোসেন ও মাহমুদ হোসেন জানায়, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে সন্ধ্যায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ভোরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তারা ফুল নিয়ে গেলে দেখি কলাগাছের শহীদ মিনারটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
 
স্থানীয় ওয়ার্ড ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক  মফিজ উদ্দিন(৬০) ও সাবেক ইউপি সদস্য  আলতাব হোসেন (৫০) জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কোন শহীদ মিনার না থাকলেও জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হতো। এবার ছাত্রদের তৈরি কলাগাছের শহীদ মিনার তৈরি হওয়ায় সকলের মাঝে বাড়তি উৎসবতা লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু দুবৃর্ত্তরা সেটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
 
প্রতিষ্ঠানের সুপার আফসার আলী বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুঁড়িয়ে দেয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার নির্মানের জন্য দুই মাস আগেই সুপার আফসার আলীকে বলা হয়েছিল। তিনি নির্দেশ পালন করেননি। কলাগাছের শহীদ মিনার ভাঙ্গার বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/উজ্জল