সুন্দরগঞ্জ ছাত্রলীগের অহ্বায়কসহ ৩২ জনের নামে মামলা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৫৪

দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন আফরোজ বারির ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আফরোজ বারির মেয়ে আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছামিউল ইসলাম সামুকে প্রধান আসামি করে ৭ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ২০-২৫ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে এমপি লিটনের বড় বোন আফরোজ বারী মেয়ে, জামাই ও নাতীকে নিয়ে ব্যক্তিগত পাজেরো গাড়ীতে করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের শহীদ মিনার পাদদেশে আসেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি ওইখানে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি পায়ে হেঁটে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তার গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১৩-৪২৯৪) নিয়ে মেয়ে, জামাই ও নাতী শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় ওই এলাকায় ছাত্রলীগের একটি মিছিল আসছিল। তার গাড়িটি উপজেলা বিএডিসি অফিসের সামনে পৌঁছিলে হঠাৎ করে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গাড়ীটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির পিছনের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। তবে গাড়িতে থাকা মেয়ে, জামাই ও নাতির কোনো ক্ষতি হয়নি।

তিনি আরো জানান, এমপি লিটন হত্যার পর ওই আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে সরকার দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও লিটনের বড় বোন আফরোজা বারী পৃথকভাবে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। শেষ পর্যন্ত তাদের দুইজনকে বাদ রেখে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদকে দলীয় টিকেট প্রদান করে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ।

ফলে এমপি লিটন হত্যার পর সৃষ্টি হওয়া পারিবারিকভাবে দ্বন্দ্বটি প্রকাশ্যে চলে আসে। এ কারণে স্মৃতির অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়ীতে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর করেছে।

ইত্তেফাক/নূহু