ফার্ক বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের কাজ শুরু করার দিনক্ষণ পুনঃনির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। কলম্বিয়ায় শান্তি চুক্তির আওতায় ল্যাটিন আমেরিকার এ দেশ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত অবসানে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
সরকারের সাথে বিদ্রোহীদের করা একটি শান্তি চুক্তির আওতায় দেশটির দীর্ঘ ৫২ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে আগামী ১ মার্চ থেকে বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে।
গেরিলাদের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সামরিক অভিযান প্রধান জেনারেল জাভিয়ার ফ্লোরেজ সাংবাদিকদের বলেন, ফার্ক বিদ্রোহীরা আগামী ১ মার্চ তাদের অস্ত্রের ৩০ শতাংশ জমা দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তিনি আরো জানান, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আগামী ১ মে’র মধ্যে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে আরো ৩০ শতাংশ অস্ত্র এবং আগামী ১ জুন বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শান্তি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ মিশনের জাতিসংঘ প্রধান জিয়ান আর্নাউল্টকে লেখা এক চিঠিতে ফার্ক নেতা এখন বলেন, অস্ত্র জমা দেয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় মনে হচ্ছে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার তারিখ পুন:নির্ধারণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
কলম্বিয়ার বৃহত্তম বিদ্রোহী গ্রুপ ফার্কের সদস্যরা গত শনিবার দেশের ২৬ টি জোনে পৌঁছানো শেষ করেছে। এই স্থানগুলোতে তাদেরকে নিরস্ত্র করা হবে।
তবে বিদ্রোহীদের অভিযোগ, নিরস্ত্রীকরণ এলাকাগুলোর কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষত পানি, বিদ্যুৎ ও সড়কের মতো অবকাঠামো পরিস্থিতি অনুকূল নয়। ফলে অধিকাংশ জোনের মৌলিক অবকাঠামো প্রস্তুত না করায় অনেকে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেননা, এসব জোনে বিদ্রোহীদের জমা দেয়া অস্ত্র রাখার কথা রয়েছে। পরে এসব অস্ত্রের ভাণ্ডার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করে ফেলা হবে।
এ প্রেক্ষাপটে বিদ্রোহীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের করা অঙ্গীকার তারা বজায় রাখছে না বলেই মনে হচ্ছে। শান্তি বিষয়ক দেশটির হাই কমিশন অফিস জানায়, অস্ত্র জমা দেয়ার জন্য এসব জোনে ৬ হাজার ৯৩৪ বিদ্রোহী একত্রিত হয়েছে। বাসস।
ইত্তেফাক/রাফাত
