গ্রীসে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্স। মঙ্গলবার ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন এবং তার সহধর্মিনী শায়লা পারভীন কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা এবং সনদপত্র তুলে দেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের নেতৃবৃন্দ, গ্রীস প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক, জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা প্রদানের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশী এবং তাদের সন্তানরা এখন সারা পৃথিবীতে তাদের যোগ ̈তার প্রমাণ রেখে চলছে। শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সময় তারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। সেই সব কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করে আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করতে চাই। আশা করি এই উদ্যোগ তাদেরকে এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরো ভালো করতে উৎসাহিত করবে। মহান শহীদ দিবসের দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা শহীদের জীবন ও চেতনা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করতে রাষ্টদূত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
শিক্ষাকে বাংলাদেশের সরকারের অগ্রাধিকারভূক্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ পূরণে প্রবাসী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দূতাবাসের প্রথম সচিব সুজন দেবনাথের সঞ্চালনায় এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের মোট নয় (৯) জন প্রবাসী বাংলাদেশী কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত নয় (৯) জন শিক্ষার্থী হলেন সাদ ইষ্টেভেন রাহমান, তীমথিয় সাহা, ফাহিম ফয়সাল বাশার, ফারজাহানা হোসেইন জেনিফা, কাজী আবীর আহমেদ, ফার্দিন ফাইয়াজ বাশার, সুমাইয়া খান, এস এম সায়েম, তাহারিম রহমান ভূঁইয়া।
IMG0
শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের গর্বিত পিতা-মাতারাও উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিবাবকরা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, এ সম্মাননা তাদেরকে আরো ভালো করার প্রেরণা দিবে। একই দিন বিকেলে দূতাবাস চত্বরে বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স লাইব্রেরীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন। এ সময় তার সাথে গ্রীসের প্রবাসী বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
IMG1
দূতাবাস লাইব্রেরী উদ্বোধন উপলক্ষে ̈ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বজায় রাখতে লাইব্রেরীর ভূমিকা অপরিসীম। দূতাবাস লাইব্রেরীর মাধ্যমে সকল বয়সের গ্রীস প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এথেন্সের বাংলা স্কুল ‘দোয়েল একাডেমী’র শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই নতুন লাইব্রেরীতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। লাইব্রেরী উদ্বোধনের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে লাইব্রেরী কার্ড বিতরণ করা হয়। বিদেশের মাটিতে নতুন লাইব্রেরী কার্ড পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে শিশু কিশোররা অত্যন্ত আনন্দিত হয়।
