চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনিরের হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এ.কে.এম. নূরুল হুদাকে কোর্ট চত্তরে প্রকাশ্যে মারধর ও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নুরুল হুদা মানিকগঞ্জ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পিপি।
এ ব্যাপারে এ.কে.এম নূরুুল হুদা মানিকগঞ্জ সদর থানায় বৃহ:স্পতিবার অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে আইনজীবী বকশী আলী মুহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে।
এ.কে.এম নূরুুল হুদা জানান, বৃহ:স্পতিবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিডি সমূহ পর্যালোচনা করতে থাকা অবস্থায় বকশী আলী মুহাম্মদ আলমগীর আমার টেবিল থেকে একটি সিডি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। আমি উক্ত কাজে বাধা দিলে সে আমার পরিহিত টাই আমার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে।
তার হত্যার চেষ্টায় আমি মেঝেতে পড়ে যাই। সে অবস্থায় আমাকে তলপেটে
লাথি মারেন বকশী। এ সময় আমার সিনিয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল মজিদসহ অন্যন সহকর্মীরা আমাকে তার হাত থেকে রক্ষা করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এছাড়া বকশী আলী মুহাম্মদ আলমগীর আমাকে আমার ০১৭১১০২১১৬৭ নম্বরে তার ০১৭১১৭৩৮২৩৮ নম্বর থেকে থেকে দুপুর তিনটা ২৭ মিনিটে আমাকে হত্যার হুমকী দেয়। সে বেশীরভাগ সময় মদ্যপ থাকে ও মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত।সে বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল পিপির পরিচয় দেয় যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
রুবেল বৃহ:স্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে তার অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট বকশী আলী মুহাম্মদ আলমগীর জানায়, এ.কে.এম নূরুুল হুদার স্পেশাল পিপি সম্পূর্ন অবৈধ।তিনি মারামাররি ঘটনা সম্পর্কে বলেন রুবেলও আমাকেও প্রচুর মারধর করেছে। আমি বর্তমানে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, আইনজীবি এ.কে.এম. নূরুুল হুদা আমাদের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল কোর্টের স্পেশাল পিপি। আইনজীবী বকশী আলী মুহাম্মদ আলমগীর স্পেশাল পিপির যে পরিচয় দেয় সেটির কোনো প্রমাণপত্র আমার কাছে কিংবা জেলা প্রশাসকের কাছেও দাখিল নাই। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকবছর পূর্বে তাকে মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতি খেকে বহিস্কার করি।
মারামারি সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই পক্ষই মারামারি করেছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।
ইত্তেফাক/নূহু
