মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পরীক্ষার হলে স্বাক্ষর দেয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের থাপ্পড়ে কান ফেটে এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থী হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে দৌলতপুর পিএস উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম আকাশ স্থানীয় আবদুর রহমানের ছেলে। সে বিষ্ণুপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
আকাশ প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে মানিকগঞ্জ ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় তলায় এক নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিসবাহ মুক্বাররাবিন জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম আকাশ আপাতত কানে কম শুনতে পাচ্ছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ইএনটি কনসালটেন্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থী প্রহারের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আবু হানিফকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্র সচিব দৌলতপুর পিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান।
দৌলতপুর পিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ছিলো ক্যারিয়ার বিষয়ক পরীক্ষা। দুই নম্বর কক্ষে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষক রাকিবুলকে কানে সজোরে থাপ্পর দেয়। তখন ওই শিক্ষার্থীর কানে রক্তক্ষরণ হয়। পরে শিক্ষার্থীকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী প্রহারের ঘটনায় তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সেকায়েপ প্রকল্পের ডিজির কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসিম আখতার জানান, শিক্ষার্থীকে থাপ্পর মারাটি উচিত হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার পর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য সেকায়েপ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রধানের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম আকাশের পিতা আব্দুর রহমান জানান, তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের নাক কান গলা কনসালনেন্ট ডা:ইউসুফ হায়দার জানান, জোরে চড় দেয়ার রাকিবুল ইসলাম আকাশের কানের পর্দা ফেটে যাওয়ায় রক্ত ঝড়ছিল। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা:লুৎফর রহমান জানান, আকাশের অবস্থা এখন আশংকামুক্ত।
জেলা প্রসাশক(যুগ্ন সচিব) রাশিদা ফেরদৌস জানান, বিষয়টি খুব দু:খজনক।আমি ঘটনাটি জানা মাত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
ইত্তেফাক/নূহু
