লক্ষ্মীপুরে গ্রামবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষ, ৩ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ, আটক-১০

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০৫

লক্ষ্মীপুরের টুমচরে সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারী, গ্রামবাসী ও পুলিশের সঙ্গে ত্রি-মুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এ সময় ৩ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, আরো ৮ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে ২০ জন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীদের ওরস পালনে গ্রামবাসীদের বাধা ও ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত  ৯টা থেকে  ১০টা পর্যন্ত  দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের হায়দার আলী মুন্সি বাড়ীতে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবারের শরীফের খলিফা ফোরকান আলীর আয়োজনে প্রতি বছর ৩দিনব্যাপী ওরস পালন করে আসছে অনুসারীরা।

ওরস পালনের নামে ঢোল বাজনা বাজিয়ে কবর বানিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হয় এমন অভিযোগে স্থানীয়রা সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীদের প্রথমে বাধা দেয়। শুক্রবার ২য় দিনে গ্রামবাসী মিছিল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ওই বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে আস্তানা ভাংচুর করা হয়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে পুলিশের গাড়িও ভাংচুর করে স্থানীয়রা। পরে সদর থানার ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ এসে গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় গ্রামবাসী পুলিশ, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারী ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিব হোসেন, ইউছুফ আলী, রাহিদ আল জিহাদ আহত হন।

এ ছাড়াও লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সদস্য শাহজাহান, ফরিদসহ ২০ জন আহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে র‌্যাব-১১সহ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তাদের কার্যক্রম চালায়, এ সময় দুষ্কৃতকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ৮০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
ঘটনাস্থলে ওসিসহ পুলিশের ৮সদস্য আহত হন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১০জনকে আটক করে করেছে।

ইত্তেফাক/নূহু