মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলার যাত্রাপুর ইছামতি নদীতে একটি পাকা সেতুর দাবি চার ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোতে পার হতে হচ্ছে।
সেতুটি নির্মিত হলে হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া, চালা, বলড়া, ভাড়ারিয়া এই চার ইউনিয়নবাসীর মানিকগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তৈরি হবে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ। শুধু তাই নয় দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাবেন দশ লক্ষাধিক মানুষ।
সম্প্রতি সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করতে যাত্রাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানকার গ্রামগুলো নদী বেষ্টিত। এক পাশে ইছামতী নদী আর একটু পশ্চিমে পদ্মা নদী। বর্ষার সময় পদ্মা নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় সারা বছর ইছামতি নদীতে প্রচুর পানি থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রাপুর প্রাথমিক ও যাত্রাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকাবাসী নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। নৌকা না থাকায় কয়েকজন কৃষক তাদের সবজি বাজারে নিতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
IMG0
গ্রামবাসী জানান, নদীর উপর একটি বাঁশের সাঁকো দু'পারের ১৫ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন। পূর্বপুরুষ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত এলাকাবাসী কতবার যে এ সাঁকোর পুরাতন নড়বড়ে বাঁশ বদলিয়ে নতুন বাঁশ লাগিয়েছে তার হিসাব কারো জানা নেই। বহুবার জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসনের কাছে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসলেও শত বছরেও ব্রিজ নির্মাণ হয়নি দুঃখও ঘুচেনি।
চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিশ্বাস বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি পাকা ব্রিজ প্রয়োজন। কিন্তু অর্থ নাই, আমরা কিছুই করতে পারছি না। সাইফুল হুদা চৌধুরী সাতিল হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি তাকে একদিন নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, 'ব্রিজ করে দিবেন।' কিন্তু তিনি আর উদ্যোগ নেন নাই। এছাড়া তিনি এলাকায় বেশী থাকেন না বলে মাথাব্যথা নেই। এছাড়া বাঁশের এ সাঁকোটি চালা ও বয়ড়া দুই ইউনিয়নের মাঝামাঝি হওয়ায় বয়ড়া চেয়ারম্যানের তেমন নজর নেই।" এ সম্পর্কে বয়ড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাইদুর রহমান তুষার বলেন, 'পাকা ব্রিজ করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।'
ইত্তেফাক/জামান
