যশোরে জাল ভোট ও কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আটক ৭

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ২০:১৮

আজ রবিবার যশোরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও জাল ভোট প্রদানের চেষ্টকালে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। চৌগাছায় কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) এসএম হাবিবুর রহমানের ভাইপোসহ দুজন এবং মণিরামপুরে জাল ভোট প্রদানের চেষ্টাকালে পাঁচজনকে আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম হাবিবুর রহমানের ভাই চাঁদপাড়া এলাকার এসএম শফিকুর রহমানের ছেলে তারেক মাহমুদ পিয়াস ও একই এলাকার গোলাম মোস্তফা এবং মণিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর গ্রামের সালাউদ্দিনের ছেলে আমিনুর রহমান, পট্টি গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে শুভ হোসেন, ওই গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে ইমন, বানুদেবপুর গ্রামের হৃদয় হোসেন এবং ভোজগাতী গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন। 

চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর হাজী মর্ত্তুজা সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লিটন নামে একজন ভোটার নৌকা মার্কায় ভোট দিলে তাকে মারপিট করেন প্রার্থী এসএম হাবিবের ভাইপো তারেক মাহমুদ পিয়াস। পিয়াস ওই বুথে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান করছিল। এসময় পুলিশ তাকে আটক করে। একই কেন্দ্র থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বুথে অবৈধ অবস্থানকারী গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। আটকদের থানায় নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

গতবার এসএম হাবিব দলীয় সমর্থনে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও এবার তিনি নৌকা প্রতীকবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ উপজেলায় নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ড. মোস্তানিচুর রহমান। 

আরও পড়ুন: ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

এদিকে, মণিরামপুরের স্মরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র জাল ভোট দিতে গিয়ে পাঁচজন জাল ভোটার আটক হয়েছেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মিঠু শেখর দত্ত বলেন, ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সাতজন। এসময় সন্দেহ হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের চ্যালেঞ্জ করে। প্রথমে তারা নিজেদের ভোটার হিসেবে দাবি করে। কিন্তু আদালত তাদের কাছে ভোটার নম্বর জানতে চাইলে তারা জানাতে পারেননি। পরে আদালত নিশ্চিত হন, সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন ভুয়া ভোটার। এরপর তাদের পাঁচজনকে ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। 

মিঠু শেখর বলেন, ‌ওই পাঁচজনকে কেন্দ্রের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আদালত আমার কাছে চাবি দিয়ে যান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আটক রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। তারা কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে এসেছিল সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মিঠু শেখর।

ইত্তেফাক/কেকে