ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩৭

ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনজন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। রবিবার (৩১ মার্চ) ক্যাম্পাসের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক গ্রুপ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও বিজয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পযন্ত চলে দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে।  বর্তমানে ক্যাম্পাসে দুইগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দুই গ্রুপই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।

বিবাদমান ছাত্রলীগের গ্রুপ দুইটি হলো 'সিএফসি' ও 'বিজয়'। দুই গ্রুপই শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র তনয় কান্তি দাস, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের কাজল দাস এবং আরবী বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের। আহতরা সবাই ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক বিজয়ের অনুসারী। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়,  ফেসবুকে এক গ্রুপের নাম অনুগ্রুপ বাজে মন্তব্য করায় রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পাশে বিজয়কর্মী তনয় কান্তি দাসকে মারধর করে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। এ ঘটনায় বিজয় কর্মীরা একত্রিত হয়ে সিএফসি কর্মীদেও ধাওয়া দিয়ে আব্দুর রব হলে পাঠিয়ে দেয়। এসময় উভয়গ্রুপের মধ্যে ইটপাটকেল ছুড়াছুড়ি হয়। পরে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা বিজয় কর্মীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহওয়ার্দী হলের সামনে এবং  সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে চলে আসে। এখানেও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিজয়কর্মী কাজল দাস ও শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহওয়ার্দী হলের সামনে এবং সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে সিএফসি গ্রপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, 'জুনিয়রদের মধ্যে কথাকাটাকাটি নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমরা সিনিয়ররা বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি'।

 

আরও পড়ুন:  মৌলভীবাজারে আকস্মিক বজ্রপাতে দুই শিশুর মৃত্যু

এদিকে বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহফুজ রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যতগুলো ঘটনা হচ্ছে সিএফসিগ্রপই সবগুলো করছে। তারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য এগুলো করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তাদের সিনিয়রদের নিয়ে বসে আমরা আজকের ঘটনা মিমাংসা করবো'।

সংঘর্ষের বিষয়ে চবি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান বলেন, 'আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে'। এ বিষয়ে চবি প্রক্টর মোহামদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, 'ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে চলে আসে'।

ইত্তেফাক/ জেডএইচডি