সকাল থেকেই সিলেট আদালত পাড়ায় ভিড় জমে ওঠে উৎসুক জনতার। কারণ রবিবার ছিল তার বহুল আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কলেজ ছাত্রী খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় ভিকটিম খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন। ঘড়ির কাটা ১২টায় পৌঁছায়নি তখন, প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয় বদরুল আলমকে। আর বদরুলকে আদালতে হাজির করার কয়েক মিনিট পর পরিবারের সদস্যদের সাথে আদালতে আসেন খাদিজা বেগম নার্গিস। বেলা ১২টার দিকে তিনি প্রবেশ করেন এজলাস কক্ষে। তখনই শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। বিচারকের সামনে বদরুলকে সনাক্ত করে সেদিন বদরুল এমসি কলেজের পুকুর পারে কিভাবে উপর্যুপোরি তার উপর চাপাতি দিয়ে হামলা ও হত্যা চেষ্টা করা হয় সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে থাকেন খাদিজা। ঠিক তখনই কিছু বলতে চাই বলে চিৎকার করে ওঠে বদরুল।
উত্তেজিত বদরুল বিচারককে উদ্দেশ করে বলতে থাকে, আমি কিছু বলতে চাই। আমাকে সুযোগ দিন। আমি সত্য কথা বলবো। আমি একজন শিক্ষক ছিলাম, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। এসময় বদরুলকে সতর্ক করে বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো বলেন, আদালত বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা নয়। বিচারকের কাছ থেকে অনুমতি না পেয়ে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বদরুল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ
আগামী ১ মার্চ ধার্য করেন।
ওই সময় ফের উত্তেজিত বদরুল চিৎকার করে বলে, ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক। তুমি আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছ-মিথ্যাবাদী।’এসময় বদরুলের আইনজীবী ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, এর আগেও একবার আদালত প্রাঙ্গণে চিৎকার করে নিজের ফাঁসি দাবি করেছিল বদরুল। IMG0
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদলতে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোট ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে খাদিজাসহ ৩৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল
