মতলবে উত্তরে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ভবন নির্মাণে বৈষম্যের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০১:৫১

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার ৫/৭ বছর অতিবাহিত হলেও ভবন নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জানা যায়, ফাইল চালাচালির মধ্যে আটকে আছে কার্যক্রম। উপজেলার আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য যেখানে একটি ভবন থাকলেই হয় সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ভবন। এর মধ্যে একটি ভবন তিনতলা বিশিষ্ট। অথচ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ইং সালে নির্মিত হয় একটি পাকা ভবন, ২০০৪ সালে নির্মিত হয় আরো একটি পাকা ভবন, ২০১০ সালে নির্মিত হয় দ্বিতল বিশিষ্ট আরো একটি পাকা ভবন এবং ২০১৩ সালে সেই দ্বিতল ভবনের ওপর নির্মিত হয় আরো একতলা। চার শিক্ষক, ২৪০ শিক্ষার্থী ও দ্বি-শিফটের আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজন না হওয়ায় অনেক কক্ষই থাকে তালাবদ্ধ। এ ব্যাপারে আমিনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরকার ও প্রধান শিক্ষক নজির আহমদ জানান, ২০১০ সালের দুই তলা ও ২০১৩ সালে আরো একটি দুই তলার উপরে একতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণে আমরা কোনো ধরনের তদবির করিনি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার ২৮ থেকে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত। পরিত্যক্ত ভবনগুলোর মধ্যে ২২টি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ওই পরিত্যক্ত ভবনটিই ছিল একমাত্র ভবন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চলছে চিঠি চালাচালি। পরিত্যক্ত স্কুল ভবনের রামদাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর লুধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে টিনের শেড তৈরি করা হয়েছে পাঠদান পরিচালনার জন্য। এর জন্যে কোনো কোনো স্কুলে স্থানীয়ভাবে আবার কোথাও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে টিনের শেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

স্কুলের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বৈষম্যের ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবির হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্কার যোগ্য ও পরিত্যক্ত যাই হোক না কেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের পরামর্শানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। নতুন ভবনের প্রয়োজন হলে চাহিদানুযায়ী নতুন ভবনের প্রস্তাব দিয়ে থাকি।

ইত্তেফাক/নূহু