পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৯:৪৫
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার চলমান পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
 
খুলনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতারা বলছেন, সমঝোতা বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেছেন, ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে কি হবে না তা নির্ধারিত হবে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ফেডারেশনের মুলতবি সভায়। 
 
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স রাত ৮টায় মোবাইলে ইত্তেফাককে জানান, ধর্মঘট চলছে। আমরা মিটিং-এ বসব। রাত ১০টার পর সিদ্ধান্ত বলতে পারব।’ সভা কোথায় হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আমি নিজেও এখনও পর্যন্ত সভার স্থান জানতে পারিনি।’
 
ঈগল পরিবহনের যশোরের গাড়িখানা কাউন্টারের কর্মী আমিনুজ্জামান কামাল রাত ৮টায় ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেন, ঢাকাগামী পরিবহন চলছে না।
 
সোমবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খুলনার পরিবহন শ্রমিক নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানানো হয় মিডিয়াকে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুপুর থেকে খুলনার অভ্যন্তরীণ রুটে এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে দূরপাল্লার গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী যশোর, বেনাপোল থেকে সন্ধ্যায় পরিবহন চালানোর ঘোষণাও দেয়া হয়। কিন্তু রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দূরপাল্লার গন্তব্যে কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। এ এলাকার অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
 
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-মানিকগঞ্জ এলাকার জোকা এলাকায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বুধবার মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। এই বিচার প্রচলিত আইনে হয়নি দাবি করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হয়।
 
ইত্তেফাক/উজ্জল