দিঘলিয়া ইউএনও’র বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:২৬
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার পানিগাতি গ্রামের সুলতান খানের ছেলে জাহিদ খান বাদী হয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। 
 
আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৬ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনায় ইউএনও আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। 
 
মামলায় অপর বিবাদীরা হলেন- দিঘলিয়া উপজেলার পানিগাতি গ্রামের ছত্তার বিশ্বাসের ছেলে  মো. আহাদ বিশ্বাস, ব্রক্ষ্মগাতি গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে মো. মোফাজ্জেল শেখ ও একই গ্রামের মৃত বারেক শেখের ছেলে শেখ মঞ্জুর হোসেন। 
 
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী জাহিদ খান ঢাকার উত্তর বাড্ডা ভাওয়ালীপাড়া মসজিদ রোড এলাকার গালফ বাংলা ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টারে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি করেন। সে সুবাদে এ প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দিঘলিয়া উপজেলার পানিগাতি গ্রামের ছত্তার বিশ্বাসের ছেলে মো. আহাদ বিশ্বাস এবং ব্রহ্মগাতি গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে মো. মোফাজ্জেল শেখকে গত বছরের ১৮ জুন কাতারেরর আরবাকন ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং-ইউসিসি নামক কোম্পানিতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অসদাচরণের কারণে ১০ মাস পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ কারণে তারা দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বাদিকে নোটিশ করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি বাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে হাজির হলে তিনি তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা প্রদান করতে বলেন। এমনকি এ সময় অভিযোগের বিপক্ষে প্রমাণপত্র দেখানোর চেষ্টা করলেও টাকা না দিলে তিনি বাদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যম কারাদন্ড দেওয়ার ভয় দেখান। এক পর্যায়ে তিনি সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে ডেকে বাদির হিসাবের বিপরীতে চেকবই ইস্যু করিয়ে আলাদা তিনটি পাতায় ২ লাখ টাকা (দু’টিতে ৫০ হাজার করে এবং একটিতে এক লাখ) লিখিয়ে নেন এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতেও বাধ্য করেন। 
 
বাদীপক্ষে মামলা দাখিলকারী আইনজীবী মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ পূর্বক তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৬ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, জোর পূর্বক লিখে নেওয়া চেক উদ্ধারের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউএনও আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে জাহিদ খান বাদী হয়ে খুলনার সহকারী জজ দৌলতপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল