প্রশাসনের ঢিলেমিতে মাদকে ভাসছে পবিপ্রবি ক্যাম্পাস

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৭, ১৫:৫৮
 
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রক্টোরিয়াল বডির ঢিলেমির কারণে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ধরা পড়লেও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ক্যাম্পাসে নেই মাদকবিরোধী কোনো অভিযান।
 
বিশ্ববিদ্যালয়টির হলগুলোর প্রবেশমুখে সিসি ক্যামেরাসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় মাদক সেবনের অভায়ারণ্যে পরিণত হয়েছে আবাসিক হলগুলোসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা ক্যাম্পাসটি।
 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে কৃষি অনুষদের ৩য় সেমিস্টারের ও এনএফএস অনুষদের ৩য় সেমিস্টারের দুই ছাত্রকে মাদকাসক্ত অবস্থায় আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় মাদকাসক্ত দুই শিক্ষার্থী কয়েকজন শিক্ষকের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে হাতেনাতে ধরা পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
 
অপরদিকে গাঁজা ও ফেনসিডিলের পর নতুন নেশা জাতীয় দ্রব্য হিসাবে যুক্ত হওয়া ইয়াবা এখন একক রাজত্ব গেড়ে বসেছে পবিপ্রবির নেশার জগত্ জুড়ে। গোলাপী বা হালকা লাল রংয়ের ছোট্ট এ ট্যাবলেট বড়িটি এখানকার মাদক সেবী ও বিক্রেতারা সংক্ষিপ্তভাবে ‘বাবা’ সম্বোধন করে। তবে ‘বাবা’ শব্দটি ইয়াবার সাংকেতিক নাম হিসাবে চাউর হয়ে যাওয়ায় আকার ইঙ্গিতে জিপি, হর্সপাওয়ার বা গুটি নামে আদান-প্রদান ও কেনা-বেচা হয়ে থাকে ক্যাম্পাসে।
 
ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, প্যারিস রোড, গ্রন্থগার ও মসজিদ এলাকা থেকে মাদকের উদ্ভট গন্ধে মাঝে মাঝে হাটা যায় না। এজন্য শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের ঢিলেমিকে দায়ী করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোরতার অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে মাদকের গন্ধে পবিত্র মসজিদের পাশ দিয়ে ও হাটা যায় না বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছে রাশেদ খান নামক ক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থী।
 
পবিপ্রবির প্রক্টর প্রফেসর পূর্নেন্দু বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, মাদকের ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স। মাদকাসক্ত দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হওয়ার পরেও তারা কিভাবে হলে অবস্থান করছেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তোর দেননি তিনি।
 

ইত্তেফাক/মণ্ডল