গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামে দুই বছর যাবত্ গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু যারা আবেদন করেছে ও ডিমান্ট নোটের টাকাও পরিশোধ করেছে তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। আবাসিক খাতে এ ধরনের প্রায় ২০ হাজার নতুন সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে। এখন আবেদনকারীরা অবিলম্বে নতুন সংযোগ প্রদানের দাবি তুলেছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএ খান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘২০ হাজার আবেদন জমা রয়েছে। তারা সংযোগ ফি পরিশোধ করেছে। তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিষয়টি কোম্পানির বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হবে। এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’
নিয়ম অনুসারে নতুন সংযোগের জন্য কোম্পানির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে সংযোগের আবেদন করতে হয়। জানা যায়, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির তালিকাভুক্ত প্রায় ৩০০ ঠিকাদার রয়েছে। এসব ঠিকাদারের সাথে আরো কয়েকশত লোক কাজ করে থাকেন। সংযোগ বন্ধ থাকায় তারা এখন বেকার। ফলে ঠিকাদাররা আবেদনকারীদের সঙ্গে নিয়ে এখন নগরীতে সভা-সমাবেশ করছে। গত সোমবার নতুন সংযোগ প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পসহ প্রায় ৬ লাখ সংযোগ রয়েছে। এর বাইরে আবাসিক খাতে ২০ হাজার, শিল্পে প্রায় ২০০ এবং বাণিজ্যিক খাতে প্রায় ৩০০ আবেদন জমা রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক ২৩০ থেকে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করলেও কোনো সাড়া মিলছে না। দীর্ঘদিন যাবত্ গ্যাসের কারণে চট্টগ্রামে প্রায় বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগ আটকা পড়েছে। ২০০৯ সালের পর শিল্পে নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চারটি ইউনিটে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
