রাউজান উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শত বছরের পুরনো কিছু পাকা ভবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মালিকানায় পরিত্যক্ত ভবন, আছে ব্যক্তি মালিকানার স্থাপনাও। অভিযোগ রয়েছে-স্থানীয় প্রভাবশালীরা সরকারি পরিত্যক্ত ভবনগুলো দখলে রেখে গরীব মানুষের কাছে ভাড়ায় খাটাচ্ছে।
উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউপি’র সামনের দুটি ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তজু মিয়া নামে এক ব্যক্তির মালিকানায় থাকা পুরনো এই ভবনের উপরে নিচে সবখানে জরাজীর্ণ। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা এই ভবনের নিচের চারটি দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে ভাড়াটে দোকানীরা। এসব দোকানের ক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগে আছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা ও দুটি কেজি স্কুলের শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের আশঙ্কা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটনা ঘটাতে পারে। এলাকার সচেতন লোকজন বলেছেন-এই ভবনের পার্শ্ববর্তী পুরনো ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটিও একই রকম ঝুঁকিতে আছে।
এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এসব স্থাপনার মধ্যে আছে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবন। এটির একাংশ আগে ভেঙে পড়লেও এখন অর্ধ ভাঙা অবস্থায় অপর অংশ ঝুলে আছে দীর্ঘদিন। পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনীর দক্ষিণ পাশে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা সরকারি একটি ভবনের নিচে গরুর খোয়ার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এটি দখল করে গরুর খোয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। কাপ্তাই সড়ক পাশের ব্রাহ্মণহাট ব্রিজের পশ্চিম পাশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছে একাধিক পরিবার। ওই ভবনটিও সরকারি মালিকানাধীন। এটিও দখলে রেখে প্রভাবশালীরা ভাড়ায় খাটাচ্ছে।
গত প্রায় দেড় দশকে রাউজানের অধিকাংশ পুরনো অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মিত হয়েছে। জীর্ণশীর্ণ যেসব ভবন এখনো টিকে আছে সেগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা এক রকম আতঙ্কে রয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
ইত্তেফাক/নূহু
