শত বর্ষ ধরে খুঁড়িয়ে চলছে পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৭, ০১:৩১

গুরুদাসপুরের পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শত বছর। কিন্তু বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম এখনও চলছে পুরনো ভবনে। জীর্ণ দশার ভবনটির ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে পানি। এমন সব প্রতিকূলতা পেরিয়েও খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দুটি পাকা ভবনে পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। তার মধ্যে একটি অফিস কক্ষ, সিঁড়ি কক্ষটি লাইব্রেরী কাম স্টোর হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। অন্য চারটি কক্ষে চলে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে প্রায় ৩শ’ ছাত্র-ছাত্রী। তাদের জন্য বসার বেঞ্চ রয়েছে নতুন পুরনো মিলে ৪৩ জোড়া। আটজন শিক্ষক দরকার হলেও রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। তাছাড়া একটি পুরনো ভবনের মেঝে দেবে গিয়ে প্লাস্টার উঠে গেছে। ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। খেলার মাঠ নিচু হওয়ায় বর্ষার সময় সেখানে পানি জমে থাকে। আর পুরনো টিনসেড ঘরটি জরাজীর্ণ থাকায় সেখানে পাঠদান নেওয়া সম্ভব হয় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান সরকার জানান,  শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে দুই শিফটে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করে। বাড়তি ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও আশাতীত ফলাফল পাওয়া যায় না।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি, মায়শা ও রাফী জানায়, একটি বেঞ্চে দু’জন করে বসার কথা থাকলেও তিন-পাঁচজন করে বসে ক্লাস করে তারা। এতে কষ্ট হয়। ক্লাসে মনোযোগ থাকে না। চতুর্থ শ্রেণিতে রয়েছে একই রকম সমস্যা।

বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি প্রভাষক মো. এনামুল হক জানান, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে এলাকার কৃতী সন্তান স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান, জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ উচ্চ পর্যায়ের অনেক অতিথি ছিলেন। সেখানে বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন বছরে বিদ্যালয়টিতে নতুন দু’জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ১৯১৩ সালে পিপলা এলাকার আদালত পণ্ডিত, কোরবার পণ্ডিত, আবেদ পণ্ডিত, জফের পণ্ডিত ও মোজদার পণ্ডিত নামে পাঁচ ব্যক্তি গ্রামের একটি বাড়িতে ছয়জন ছাত্র নিয়ে পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। তিন বছর চলার পর এলাকাবাসীর দান করা ৪০ শতক জায়গার ওপর ওই পাঠশালাটি গড়ে ওঠে পিপলা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে। ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু