ইসলামপুরে কাঁসাশিল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৭, ০২:২৪

জামালপুরের ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁসাশিল্প নানা সংকট আর সমস্যায় মুখথুবড়ে পড়েছে। কাঁসাশিল্প সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের এখন দুর্দিন। একসময় ইসলামপুরের কাঁসাশিল্পটি মসলিন কাপড়ের মতো বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ইসলামপুরের উন্নত মানের কাঁসার বাসন-কোসনের কদর ছিল মোগল আর ব্রিটিশ রাজপরিবারেও। কিন্তু কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আর পুঁজির অভাবসহ স্বল্পমূল্যে প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী ব্যবহারে এ শিল্প মুখথুবড়ে পড়ছে।

কালের বিবর্তনে কাঁসাশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। অসংখ্য পরিবার জড়িয়ে ছিল এই শিল্পের সাথে। বংশ পরম্পরায় চলে আসা এ পেশাটি এখন ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার।

এখন কাঁসাশিল্পের জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সীসা, মেলামাইন, প্লাস্টিক, সিরামিক আর কাঁচের তৈজসপত্রের ভিড়ে কাঁসার প্রচলন হারিয়ে যাচ্ছে। এখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আগের মতো কাঁসার তৈজসপত্রের কদর বিদ্যমান। দেশে-বিদেশে কাঁসার বাসন-কোসনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার, এমনকি রপ্তানি উদ্যোক্তার অভাবে শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে। তা-ই শিল্পীদের পুঁজির অভাব, কারিগর সংকট, কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতায় কোনোভাবে টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী কাঁসাশিল্প পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে।

কাঁসাশিল্পীরা জানান, কাঁসার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত তামা আর রাংয়ের (টিন এ্যাংগট) দুষ্প্রাপ্যতা এই শিল্পকে সংকটের মুখে দাঁড় করেছে। তামা দেশে কম-বেশি পাওয়া গেলেও রাং আমদানি করতে হয় মালয়েশিয়া থেকে। এ ছাড়া, বেড়েছে কয়লার দামও। আর এসব কারণে টিকে থাকতে পারছে না কাঁসাশিল্প। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক কাঁসাশিল্প সংশ্লিষ্ট পরিবার। ইসলামপুরের কাঁসারি পল্লিতে, আগেও যেখানে ছিল ২৫-৩০টি কাঁসা কারখানা। এখন নানা সংকটের কারণে টিকে আছে মাত্র ৬-৭টি কারখানা। হাঁটি হাঁটি পা-পা করে যে কয়টি কারখানা  টিকে রয়েছে, তা-ও হুমকির মুখে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘কাঁসাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে জাতীয় সংসদে কথা বলেছিলেন। তাই সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে। তাদের সরকারি সহায়তা করা হলে একদিকে, শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত হবে। অন্যদিকে কাঁসাশিল্পের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, শুল্কমুক্ত রাং বা আমদানির উদ্যোগ নিলে এমন কি বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিলে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এই কাঁসাশিল্পটি টিকে থাকবে, অন্যথায় শিল্পটি মসলিন শিল্পের মতো এক সময় হারিয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/নূহু