ইন্দুরকানিকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা গঠনে মরিয়া প্রশাসন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৭, ১৬:২৬
ঘড়িতে তখন রাত ১০ টা। ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী অফিসার খবর পেলেন পাড়েরহাটে একটি বাল্য বিবাহের আয়োজন চলছে। এমন খবরে ওই বিয়ে বাড়িতে হানা দেন তিনি। তার আগমনের খবরে পালিয়ে রক্ষা পায় বর। আর কনের পিতা মুচলেকা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। বিয়ে হয় পণ্ড। ফলে রক্ষা পায় সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। যেখানে বরের বয়স ছিল ৩৫।  আর কনে সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত মাসের ১২ তারিখ রাতে এ ঘটনা ঘটে ছিল। 
 
এভাবেই দিন রাত্র উপেক্ষা করে বাল্যবিবাহ রোধে ব্যস্ত ইন্দুরকানি উপজেলা প্রশাসন। এই উপজেলায় বাল্য বিবাহ আর নয়। এমন প্রতিজ্ঞাই যেন প্রশাসনের। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হুদা।  দুই মাস হয়েছে তিনি এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। এরই মধ্যে  ৮টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।  
 
একটি সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় বাল্য বিবাহের হার প্রায় ৯০ ভাগ। যা খুবই হতাশাজনক বলে মনে করেন সচেতন মহল।
 
তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হুদা জানান, বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ। এটি এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাল্য বিবাহ বন্ধের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদেরকে সচেতন করে তুলছি। পাশাপাশি অভিভাবকদেরকেও আমাদের কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসছি। ফলে এ অপরাধ প্রতিরোধ আমাদের জন্য সহজ হয়ে উঠবে।    
 
এ বিষয়ে ইন্দুরকানি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবেরা সুলতানা জানান, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের কারণে এই এলাকায় বাল্য বিবাহের ঘটনা বেশি ঘটছে। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। তার পরেও প্রায় প্রতি বছর ১৫/২০ জন ছাত্রী বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়ারাও বাল্য বিবাহে বাধ্য হচ্ছে পরিবারের অসচেতনতার কারণে। এমন খবর ঘটনার অনেক পরে আমরা জানতে পারি। 
 
ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, আমরা খবর পাওয়া মাত্র বাল্য বিবাহ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে সভা সেমিনারের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কুফল তুলে ধরছি। অল্প দিনেই এই এলাকায় বাল্য বিবাহ মুক্ত করা যাবে। 
 
পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আগে জন্মনিবন্ধন পত্র জালিয়াতি করে বয়সের হেরফের করে বিয়ে দেয়া হত। এখন আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
 
উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রার গিয়াস উদ্দিন সেলিম জানান, বিধি মোতাবেক বয়স কম এমন ব্যক্তিদের বিবাহ আমরা নিবন্ধন করছি না। বাল্য বিবাহের খবর আমাদের কাছে আসলে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন্ধ করে দিচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল