টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গাছেগাছে আমের মুকুলের সমারোহ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৭, ১৭:৫৯
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গাছে গাছে এখন আমের মুকুলের সমারোহ চলছে। আম বাগান ও আম গাছ এলাকায় এখন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। আমের মুকুলের সুরভিত গন্ধে যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আজ শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা গেছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, মির্জাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। এ বছর আবওয়া অনুকলে থাকলে আমের ফলন ভাল হবে।উপজেলার পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বনাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁমতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গাছে গাছে আমের মুকুলের বেশ সমারোহ। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কোন কোন গাছে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোন কোন গাছে আমের ছোট ছোট গুটি বের হচ্ছে। উপজেলার গোড়াই, তরফপুর, আজগানা, লতিফপুর ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়ন মূলত পাহাড়ি এলাকা। ফলে এই পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আমের ফলন বেশি বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
 
আম চাষী মজিবর মোল্লা (৬৭), বেলায়েত হোসেনসহ (৬০) অনেকেই জানিয়েছেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ভাল হবে। কারণ এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে যদি অতিমাত্রা ঝড়-বৃষ্টি ও শীলাবৃষ্টি না হয়, তবে আমের ফলন খুবই ভাল হবে। তারা আরও জানিয়েছেন মির্জাপুরে মূলত ৪-৫ জাতের আম চাষ হয়। ৪-৫ জাতের আম ছাড়াও মির্জাপুরে দেশীয় জাত, ফজলী, 
খিরসাপাত, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, কালিভোগ, ক্ষুদি খিরসাসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়। গ্রামের বিভিন্ন বাগান ছাড়াও এখন শহরের বিভিন্ন রাস্তার আশপাশ এবং বাসাবাড়ির ছাদেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আমের চাষ হয়ে আসছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আম চাষে উৎসাহিত করতে এলাকার আম চাষী ও কৃষকদের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আম চাষের জন্য উৎসাহিত করতে কৃষকদের নানা পরামর্শ ও হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল