চট্টগ্রাম বন্দরে ১শ কোটি টাকার পণ্য আটক

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৭, ০২:১৯

কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক সবচেয়ে বড় চোরাচালানির পণ্য আটক হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ কয়েকদিন ধরে নজরদারির পর গতকাল রবিবার প্রায় ১০০ কোটি টাকার পণ্য আটক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানত সিগারেট, এলইডিএইচডি সনি টেলিভিশন এবং বিদেশি মদ। শুল্ক গোয়েন্দারা ৬টি কন্টেইনার গতকাল কায়িক পরীক্ষার জন্য খুলেছেন। আজ সোমবার অপর ৬টি কন্টেইনার খোলা হবে বলে জানানো হয়। ওই ৬টি কন্টেইনারে সিগারেট, টিভি, মদ ছাড়াও অন্যান্য পণ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খানের মতে, শুল্ক গোয়েন্দাদের এটি সবচেয়ে বড় চালান আটক। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ অভিমুখী ‘ভাসি সান’ জাহাজে সিগারেট, টিভি ও মদবাহী কন্টেইনার তোলার পর থেকে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ তা নজরদারিতে আনে। ঢাকার খিলগাঁও এলাকার ‘হিনান আনহুই এগ্রো’ নামক একটি পোল্ট্রি ফিড কারখানার নামে ৬টি কন্টেইনার ‘ভাসি সান’ জাহাজে তোলা হয়। ঢাকার আইএফআইসি ব্যাংক এফবিসিসিআই শাখায় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ নামে ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়। ভাসি সান জাহাজযোগে আসা প্রথম ধাপের এ ৬টি কন্টেইনার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। এরপর উক্ত ৬ কন্টেইনারের আইজিএম (ইম্পোর্ট জেনারেল ম্যানুফেস্ট) ঘোষণায় ‘ক্যাপিটাল মেশিনারিজ’ ঘোষণা দেওয়া হয়।

কন্টেইনার ৬টি গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পরপর খালাসের জন্য সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান রাবেয়া এন্ড সন্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাবেয়া এন্ড সন্স পণ্য খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। রাবেয়া এন্ড সন্সের মালিককে গতকাল কায়িক পরীক্ষার সময় ডাকা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, রাবেয়া এন্ড সন্স নামক সিএন্ডএফের মালিক জালাল উদ্দিন। তিনি বেনাপোল এলাকায় থাকেন। গতকাল কায়িক পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ওই ৬ কন্টেইনার বন্দরের এনসিটিতে নিয়ে আসার পর শুল্ক গোয়েন্দা, চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হয়। ৬টি কন্টেইনারের মধ্যে ৩টিতে সিগারেট এবং অপর ৩টির মধ্যে সিগারেট, টিভি এবং একটি কন্টেইনারের অর্ধেক পরিমাণ পর্যন্ত বিদেশি মদের বোতল পাওয়া যায়।

আরো সন্দেহজনক ৬টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। ইতোমধ্যে ওই ৬টি কন্টেইনার স্ক্যান করে আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য রয়েছে বলে জানা যায়। ওই ৬টি কন্টেইনারের পণ্যও পোল্ট্রি ফিড উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ নামে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই ৬টি কন্টেইনার খালাস করার জন্য কোনো সিএন্ডএফ নিয়োগ না করায় এর বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়নি বলে জানা যায়।

ইত্তেফাক/নূহু