রামগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৭, ১৭:১৬
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে খেজুরের রস চুরির অপবাদ দিয়ে এলাকার ইউপি সদস্য ও মাতব্বররা এক গৃহবধূকে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকের এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারার বেগমের স্বামী দিনমুজুর মো. মনির চলতি মৌসুমে  কয়েকটি খেজুর গাছ পাশ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের রাজের বাড়ির সলেমানকে বর্গা দেয়। সলেমান গাছ বর্গা নেয়ার পর খেজুরের রস একাই ভোগ করতে থাকেন। এতে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনোয়ারা বেগম তার ছোট শিশুকে নিয়ে বাড়ির পাশের খাটো একটি খেজুর গাছের রস আনতে যায়। এ সময় সলেমান তাকে চোর আখ্যা দিয়ে ঘটনাস্থলে বেদম মারধরের পর আটক করে রাখে। পরে ওই দিন রাত নয়টায় স্থানীয় মাসিমপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. খিজির আহম্মেদ, দক্ষিণ নারায়ানপুরের ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন ও একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলুসহ গ্রাম্য মাতাব্বরদের নিয়ে একটি  সালিশি বৈঠক বসে।
 
এতে আনোয়ারা বেগমকে চোর সাবাস্ত্য করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও বেত্রাঘাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উক্ত রায়ের আলোকে সলেমানের নেতৃত্বে কাউনিয়া বাজারের আ. মান্নান, এমরান হোসেন, নারায়নপুরের আ. রব, মো. লিটন, মো. স্বপন, আহসান উল্যা  মিলে  গৃহবধূ আনোয়রাকে বেদম মারধর শেষে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং জরিমানার টাকা দিতে না পারায় তার একটি গরু ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। বিবস্ত্র করে নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
দক্ষিণ নারায়ণপুরের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান, ভিডিও করার বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা। মোবাইলে খবর পেয়ে রাত ১১টায় আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আনোয়ারা চোর প্রমাণিত হওয়ায় কিছু টাকা জরিমানা করেছি। কিন্ত তার কাছে টাকা না থাকায় একটি গরু মেম্বার খিরিজের জিম্মায় রাখা হয়েছে। টাকা দিলে গরু দিয়ে দেয়া হবে।
 
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মহসিন জানান, তদন্তের স্বার্থে এখন বেশি কিছু বলা যাচ্ছেনা। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
রামগঞ্জ থানার ওসি মো. তোতা মিয়া জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে  ছাড় দেয়া হবেনা।
 

ইত্তেফাক/মণ্ডল