সিলেট বিভাগের জগন্নাথপুর-পাগলা-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলায় রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৭০২.৩২ মিটার দীর্ঘ রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। ইতোমধ্যে সেতুটির প্রায় ১৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একশ’ কোটি ২৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটি পিসি গার্ডার এবং বক্স গার্ডারের সমন্বয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৫টি স্প্যানের এই সেতুটিতে ১৪টি পিলার থাকবে। এ্যাপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য হবে আড়াই কিলোমিটার।
সেতুটির কাজ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাজ শুরু হওয়ার তিন মাসে প্রায় ১৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে সেতুটির পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়। রানীগঞ্জ সেতুর কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব কমবে ৫২ কিলোমিটার। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে কুশিয়ারা নদীর উপর দীর্ঘ এ সেতুটির নির্মাণ কাজ দেখতে প্রতিদিন শত শত উত্সুক লোকজনের নদীর দুই পাড়ে সমাগম ঘটে থাকে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান (সিআর ২৪ বি এসএম বিল্ডার্স জয়েন্ট বেঞ্চার) এর রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজে দায়িত্বরত ম্যানেজার জামাল আহমদ জানান, প্রায় তিনশ’ শ্রমিক কাজ করছেন। সেতুটির নির্মাণ কাজ দেখতে আসা জনসাধারণসহ উপজেলাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রতি অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জগন্নাথপুরবাসীর স্বপ্ন পূরণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘রানীগঞ্জ সেতু’র ফাউন্ডেশনের নিচের ৬০ ভাগ পাইলিংয়ের কাজ তিন মাসের মধ্যেই শেষ হয়েছে। বর্ষার আগে ৬০ ভাগ পিলার উপরে উঠে যাবে। এ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষের দিকে। সেতুটির কাজ প্রায় ১৫ ভাগ শেষ হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
