কেশবপুর রাস্তা দখল করে বাঁধ!

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৭, ০২:০৭

গত আগস্টের বন্যায় কেশবপুর পৌর শহরসহ অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু রাস্তার পাশের টংঘরে। ওই সময় তলিয়ে যাওয়া মত্স্য ঘের রক্ষায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে ঘের ব্যবসায়ীরা সরকারি রাস্তা দখলে নিয়ে তিন/চার ফুট উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে হুমকিতে রয়েছে কেশবপুরের ব্যাসডাঙ্গা ও ফতেপুর সড়ক।

কেশবপুর পৌর ও সদর ইউনিয়নে ২৫ থেকে ৩০টি মত্স্য খামার রয়েছে। অধিকাংশ খামার অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধসহ সরকারি রাস্তা ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করেই নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরও কেশবপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী ভরাট হওয়ায় গত আগস্টে কেশবপুর শহরে বন্যা হয়। ফলে এখানকার অধিকাংশ মত্স্য খামার বন্যার পানিতে ভেসে যায়। চলতি শুষ্ক মৌসুমে মত্স্য ব্যবসায়ীরা ভেসে যাওয়া এসব মত্স্য খামার রক্ষায় রাস্তার দুই পাশ তিন/চার ফুট উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামনের বর্ষা মৌসুমে এ সমস্ত রাস্তায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

পৌরসভার কাউন্সিলর জাকির হোসেন জানান, কেশবপুর-ফতেপুর পাকা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের বন্যায় রাস্তাটি প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই বছর আগে এ রাস্তার আলতাপোল ঋষিপাড়ার পাশে ৬০ বিঘা জমি নিয়ে মাছের ঘের করেছেন ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম ও হোমিও ডাক্তার মাসুদুজ্জামান খান। গত বছর বন্যায় ঘেরটি পানিতে তলিয়ে যায়। তাই বন্যা থেকে ঘেরটি রক্ষায় মালিকরা রাস্তা দখলে নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছে। এছাড়া মত্স্য খামার মালিক সেলিমুজ্জামান আসাদ খতিয়াখালি ব্যাসডাঙ্গা পাকা সড়কের দুই পাশ দখল করে বাঁধ নির্মাণ করছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পথ না থাকায় আগামী বর্ষা মৌসুমে এ সড়কগুলো পানি প্রবাহের ড্রেন হিসেবে ব্যবহার হবে। ফলে চলাচলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

ঘের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, ঘেরের মাছ রক্ষায় বেড়ি করা হয়েছে। কোনো সরকারি জায়গা দখল করা হয়নি।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, মাছ রক্ষায় যে কেউ ভেড়ি করতে পারে। বিষয়টি অজানা নয়। তবে নিয়মবহির্ভূতভাবে করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু