চট্টগ্রামে ২৫ হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৭, ০০:২৮

চট্টগ্রামে ফিটনেসবিহীন প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এসব গাড়ি ১০ থেকে ১২ বছর যাবত্ বিআরটিএ থেকে ফিটনেস নবায়ন না করে চলাচল করছে। এর ফলে সরকার বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। পরিবহন খাতে এই অনিয়ম নিয়ে বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন মালিক একে অপরের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় যাবত্ চট্টগ্রামে পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা বিরাজ করছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট ও রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বত্র বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। গাড়ির গ্লাস, লাইট, জানালা ভাঙা। তারপরও রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ এসব যানবাহন ট্রাফিক পুলিশের সামনে বাধাহীনভাবে চলাচল করছে। ত্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি কিভাবে চলছে তার কোনো উত্তর মিলছে না। তবে কোনো ‘প্রাইভেট গাড়ি’ ত্রুটি নিয়ে চলাচল করলে রাস্তায় দফায় দফায় পুলিশের রোষানলে পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, মহানগরীতে ১০/১২ বছর যাবত্ ফিটনেস নবায়ন করছে না—এ ধরনের বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। আর জেলায় রয়েছে এ ধরনের যানবাহন প্রায় ১৩ হাজার। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ট্রাক, বাস, মিনিবাস, টেম্পো, সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ইত্যাদি। তবে অটোরিকশা সবচেয়ে বেশি। অনেক অটোরিকশা ১৬/১৭ বছর অতিক্রম করেছে, তারপরও জোড়াতালি দিয়ে চলছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ট্রাক, মিনি ট্রাক, বাস, হিউম্যান হলার ও টেম্পু। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলছে লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে ১৪/১৫ বছর বয়সী কিশোর গণপরিবহনের গাড়ি চালাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে নগরীর হিউম্যান হলার ও টেম্পুর মধ্যে কম বয়সী চালকের সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রামে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠন এক ডজনের বেশি। বাস মালিকদের মধ্যে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৮টি সংগঠন রয়েছে। এত ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে বছরের পর বছর কীভাবে চলাচল করছে– জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিআরটিএ-এর কোনো মোবাইল কোর্ট নেই। রাস্তায় মাঝে মধ্যে পুলিশ কিছু মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। প্রশাসনের কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে’।

ইত্তেফাক/নূহু