নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য ফুলে আহম্মেদকে (৪৫) কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে ৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত মানিক মিয়া, রূপা মিয়া ও আনটু মিয়াকে বুধবার সকালে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে হামলার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা ফুলে আহম্মেদের চাচাতো ভাই গোলাপ মিয়া বাদী হয়ে ১৪ জনের নামোল্লেখ করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গুরুতর আহত ফুলে আহম্মেদ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে পৌর শহরের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রদলের হামলায় কেন্দুয়া থানার ১৩ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপির ৫শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে গত ৩/৪ দিন আগে পুলিশ বানিয়াগাতী গ্রামে বিএনপির সমর্থকদের খুঁজে বাড়িতে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বেপারী ও তার লোকজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফুলে আহম্মেদকে দোষারোপ করে আসছিল। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার (৭ মার্চ) উপলক্ষ্যে ফুলে আহম্মেদের ছেলে জুনাঈদ বাড়ির সামনে সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে থাকে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতা আবুল কালাম ও তার লোকজন তাতে বাধা নিষেধ করে। আওয়ামী লীগ নেতা ফুলে আহম্মেদ এর প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ফুলে আহম্মেদের মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ফুলে আহম্মেদকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বানিয়াগাতী গ্রামের আবুল কালাম বেপারী জানান, ফুলে আহম্মেদের সাথে আমাদের পারিবারিক পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার দুপুরে ফুলে আহম্মেদের ভাই নূর আহম্মেদের ছেলে মাইনুল আমার পক্ষের রমজান মিয়ার শিশুপুত্র রনিকে মারপিট করে। বিষয়টি জানাতে রমজান ও তার লোকজন নূর আহম্মেদের চাচার কাছে নালিশ করতে গেলে তারা উল্টো বকাবকি করে। একপর্যায়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়। এতে ইসমাইল, শান্তু মিয়া ও পিয়াস মিয়া মারাত্মক আহত হয়। আহতরা বর্তমানে তাড়াইল ও কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৩ ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল
