পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলা : আরও ২টি বোমা উদ্ধার

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৭, ১৭:৪৫
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় হাইওয়ে পুলিশের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনায় আটক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৮ মার্চ) বিকেলে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (এসআই) মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
 
বিস্ফোরিত বোমার আলামত উদ্ধারসহ মামলার এজাহারে আটক দুই জঙ্গি জসিম (২৩) ও হাসানকে (২৫) আসামি করা হয়েছে। আটক জঙ্গি জহিরুল ইসলাম জসিম টাঙ্গাইল জেলার কালীহাতি উপজেলা সদরের এলেঙ্গা বাইপাস তিন রাস্তার মোড় এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে এবং অপরজন হাসান চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে।
 
আটক জঙ্গি জসিম মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলাধীন কুটুম্বপুর-খাদঘর এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাকে আটক করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অপর জঙ্গি হাসান কুমিল্লা জেলা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
 
অপরদিকে মঙ্গলবার মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর বাস স্টেশন এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের চেক পোস্টে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশকে উদ্দেশ করে জঙ্গিদের ছোড়া ২টি বোমা বিস্ফোরিত না হয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে গেলে সেগুলো উদ্ধারে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুকুর থেকে একটি বোমা উদ্ধার করা হলেও অপরটি উদ্ধার করতে পুকুরের পানি সেচ করতে হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের। বুধবার সকাল ৭টায় বোমাটি উদ্ধার করার পর দুপুর ১২টায় বোমা ২টি নিষ্ক্রিয় করে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ ইন্সপেক্টর আজিজুল হক মিয়া, উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোদাচ্ছের কায়সার, (এস.আই) রাইসুল ইসলাম। ঘটনাস্থলটি চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি চান্দিনা ও দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছে।
 
এছাড়া জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৪টি বোমা মঙ্গলবার বিকেলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেন পুলিশ সদর দপ্তরের এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (এস.আই) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 
এদিকে, জহিরুল ইসলাম জহির ও হাসান নামের উভয় জঙ্গি তাদের দেওয়া নাম পরিচয়ের সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি।
 
জহিরুল ইসলাম জসিম এর দেওয়া নাম পরিচয় নিয়ে কালীহাতি উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র সফি খান জানান, এলেঙ্গা বাইপাস এলাকায় কয়েকটি তিন রাস্তার মোড় রয়েছে। মনে হচ্ছে জঙ্গি জসিম তার গ্রামে নাম বা পরিচয় গোপনের চেষ্টা করছে। IMG0
 
অপর জঙ্গি হাসান পুলিশের কাছে দেওয়া নাম পরিচয়ে সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি। তার দেওয়া তথ্যমতে তার নাম হাসান, পিতার নাম- মৃত মোহাম্মদ হুসাইন, গ্রামের বাড়ি শান্তিরহাট, উপজেলা পটিয়া, জেলা চট্টগ্রাম। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানাযায়- পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট নামে কোন গ্রাম নেই। তবে ওই উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম বাচ্চুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার ইউনিয়নে শান্তিরহাট নামে কোন গ্রাম নেই। তবে শান্তিরহাট নামে একটি বাজার রয়েছে। ওই বাজারে হাসান নামে একজন দর্জি দোকানী রয়েছে। তবে তার বাবার নামে একই হলেও তার বাবা জীবিত এবং দর্জি হাসান বুধবার সকাল থেকে দোকানেই কাজ করছে। আটক জঙ্গির দেওয়া তথ্যে এমন কোন ছেলে আমার ইউনিয়নে নেই। 
 
প্রসঙ্গত, মহাসড়কের চলাচলরত অধিকগতি সম্পন্ন গাড়ি চিহ্নিত করণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় অভিযান চলছিল। ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির সার্জেন্ট কামাল হোসেন এর নেতৃত্বে ওই অভিযান চলাকালিন সকাল সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহণের একটি বাসের অধিক গতি চিহ্নিত হয়। পুলিশ গাড়িটি ধাওয়া করে আটক করার পর বাস থেকে নেমে আসা যাত্রীবেশী দুই জেএমবি সদস্য আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে। ভাগ্যবসত: ওই বোমা বিস্ফোরিত না হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া শুরু করলে তারা বোমা ছোড়া অবস্থায় দৌঁড়ে খাদঘর গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলিছুড়ে। প্রায় ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় ২৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিমকে এবং হাসান নামে আরও এক জেএমবি সদস্যকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বোমা ও ১টি ধারালো ছুড়ি উদ্ধার করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/মাহমুুদুল