আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৭, ২১:৪৭

ফেনীর ফুলগাজীর বদরপুর সীমান্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় নওশাদ আলী নামের এক আনসার সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে হামলাকারীরা। ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানাসহ ১০ জন। আহত ম্যাজিস্ট্রেট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। গত বুধবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলাকারীরা নিহত আনসার সদস্যের লাশ বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে দ্বিতীয় পতাকা বৈঠকে মরদেহটি ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।

পুলিশ, বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশ ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বদরপুর সীমান্তের মুসলিমপাড়া (খানাবাড়ী) এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা ছুরি-চাপাতি নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ১৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করলে, মাদক ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। পুলিশ প্রাণে বাঁচার জন্য কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বাংলাদেশ সীমানায় পালিয়ে আসলেও ভারতের অনুপ্রবেশকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা আহত এবং আনসারের ল্যান্স নায়েক নওশাদ আলী ঘটনাস্থলে নিহত হন। এছাড়া আনসারের মরদেহ অনুপ্রবেশকারীরা বিএসএফ এর হাতে তুলে দেয়।

আহত ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাঁচাতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে কুপিয়ে আহত করেন। তার হাত, বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপ লাগে।

ফেনী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. নাজমুল জানান, আহত ম্যাজিস্ট্রেটের শরীরের ৩টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) ঐক্য সিং, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবদুল আলিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিসিঞ্জার চাকমা প্রমুখ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সরওয়ার জাহান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা রাতের আঁধারে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য ভুল করে জিরো পয়েন্টে চলে গেলে সেখানে মাদক ব্যবসায়ী ও অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ওপর হামলা চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই রাতে সীমান্ত এলাকায় পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হলে বিএসএফ বিজিবিকে জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী পতাকা বৈঠকে পর আনসার সদস্যের মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।